নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তবে গণতন্ত্র মানে শুধু ব্যালটবাক্সে ভোট দেয়া না। নির্বাচনের আগে যা হয়, নির্বাচনের সময় ও নির্বাচন পরবর্তী সবকিছুই গণতন্ত্রের অংশ।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত ‘অ্যাডভান্সিং উইমেন্স লিডারশিপ ইন ইলেকশন্স’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আলোচকরা এসব কথা বলেন। রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, নেত্রীরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁরা অন্য কোনো ইস্যুতে একমত হতে না পারলেও মঙ্গলবারের বৈঠকে রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এ গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি কাটিয়ে ক্রোয়াকে।
বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ইসির সংলাপে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলে নারী প্রতিনিধি ছিল না। নারীদের নিয়ে ইসি আলাদা সংলাপ করেছে। সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে নারীদের অধিকার সমানভাবে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। সেটার ওপর ভিত্তি করে নারীদের অধিকার নিশ্চিত হবে বলে বিশ্বাস করি। ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথম নারী বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে পার্লাামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। নারীরা নিজেদের যোগ্যতা, মেধা, পরিশ্রম, শিক্ষা, চরিত্রের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে গেছেন। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে নারীদের যে অগ্রগতি পৃথিবীর অন্য কোথাও এরকম নেই। গত ৩১ বছরে প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে নারীরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের নারীদের সংশ্লিষ্টতার গুরুত্ব তুলে ধরে কেএম নূরুল হুদা বলেন, নারীরা ভোট জালিয়াতি করে না। এটা পুরুষদের কাজ। নারীরা যেভাবে ঘর গোছাতে পারে, তেমনি তারা রাষ্ট্রও গোছাতে পারে। নির্বাচন কমিশনের আইনি বাধ্যবাধকতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের আইনে সব রাজনৈতিক দলের সকল পর্যায়ে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার বিধান আছে। কিন্তু নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে এরকম কোনো বিধান নেই। তাই এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
গোলটেবিল বৈঠকের বিশেষ অতিথি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, গণতন্ত্র বলতে বিস্তৃত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সকল উপাদানকে বোঝায়। গণতন্ত্র শুধু ব্যালটবাক্সে ভোট দেয়া না। নির্বাচনের আগে যা হয়, নির্বাচনের সময় ও নির্বাচন পরবর্তী সবকিছুই গণতন্ত্রের অংশ।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রার্থীদের জন্য প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাওয়া উচিত। কোনো ধরনের ভয়, ঘর বা চাকুরি হারানোর আশঙ্কা থাকা উচিত না। নাগরিকদের ভোটার হওয়ার স্বাধীনতা থাকতে হবে। বৈধ নির্বাচনের ফলাফলকেও সকলের শ্রদ্ধা করা উচিত।