ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম, দার্শনিক আবু মহি মুসা, কবি কমরেড শামসুজ্জামান মিলন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোঃ হারুন-অর-রশিদ খান, সাবেক ছাত্রনেতা আকবর হোসেন বাহার, শেখ নাসির উদ্দিন (ভূমিহীন) মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ, এনডিপি নেতা কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ, নারীনেত্রী তানিয়া সুলতানা।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারী নিষ্পাপ কিশোরী ফেলানীকে তার বাবা নুরুল ইসলামের সামনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্য অমিয় ঘোষ বিনা উস্কানীতে, বিনা কারণে গুলি করে হত্যা করে। গুলিতে আহত ফেলানী সীমান্তের কাঁটাতারের সাথে আটকে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিল আর পানি পানি বলে চিৎকার করছিল। নিষ্ঠুর বিএসএফ তাকে একগ্লাস পানি দেয়নি। পানি না পেয়ে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তাঁর নিথর দেহ ঝুলতে থাকে সীমান্তের কাঁটা তারের সাথে। ঝুলন্ত ফেলানীর মৃতদেহের ছবি বিশ^বিবেককে নাড়া দেয়, ঘৃণা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে সারা পৃথিবীতে। মামলা রুজু হয়। বিএসএফ তাদের আদালতে বিচারের নামে প্রহসন করে খুনি অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করে। বাংলাদেশ বিচার পায়নি। আপিল হয় ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টে। অদ্যাবধি বিচার সম্পন্ন হয়নি।

বিলম্বিত বিচার অবিচারের নামান্তর মাত্র। ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট বিচারের দীর্ঘসূত্রতা আমাদের মর্মাহত করে। আমরা মনে করি ফেলানী হত্যার বিচার না হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না। বাংলাদেশের নাগরিকদের বিএসএফ বিনা বিচারে হত্যা করে। যা অমানবিক। এ হত্যা বন্ধ করতে হলে ফেলানী হত্যাকারী অমিয় ঘোষকে ফাঁসি দিতে হবে।

অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে সকলেই জানেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্ত্রহাতে ভারতীয় বিএসএফ ঢুকে পড়ে বারবার। যা আমাদের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লংঘন। সার্বভৌমত্বের লংঘন স্বাধীনতার লংঘন। ভারতের সাথে চীন, মিয়ানমার, নেপাল, ভূটান, পাকিস্তানের পারস্পরিক সীমান্ত থাকলেও শুধু বাংলাদেশ সীমান্তে তারা অমানবিক ভাবে সীমান্ত হত্যা করে। যা খুবই দুঃখজনক ও ন্যাক্কার জনক। স্বাধীনতার পর থেকে পানি আগ্রাসন, মাদক প্রেরণ, নারী ও শিশু পাচার, মানব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অমানবিক ব্যবসার ফলে আধিপত্যবাদী ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিশ্বস্ততার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে নি। ভারতের আধিপত্যবাদী আচরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করতে বাধা সৃষ্টি করছে। যা আমাদের জাতীয় চেতনা উন্মেষের প্রতিবন্ধকতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অন্তরায়।

আমরা জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর ২০১৫ সালে বিশ^ব্যাপী সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে ৭ জানুয়ারি ফেলানী দিবস পালনের জন্য স্মারক লিপি প্রদান করি। সীমান্ত হত্যা ও সার্বভৌমত্বের লংঘনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়তে নাগরিক পরিষদ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সক্রিয় আন্দোলন সংগ্রাম করছে।

ফেলানী হত্যাকারী বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের ফাঁসি, ফেলানীর পরিবারকে কমপক্ষে ত্রিশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, সীমান্ত হত্যা ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বন্ধ, কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তের নাম ফেলানী সীমান্ত; ঢাকার গুলশান-১ থেকে তেজগাঁও রাস্তার নামকরণ ফেলানী স্মরণী, বাংলাদেশসহ সারাবিশে^ ৭ জানুয়ারী সীমান্ত হত্যা বিরোধী নিরাপদ সীমান্ত দিবস “ফেলানী দিবস” পালনের দাবীতে এ বছর ২০১৭ সালে ৭ জানুয়ারী আমরা ফেলানী দিবস পালন করি। আমরা দাবী জানাচ্ছি জাতীয়ভাবে ফেলানী দিবস পালন করা হউক, জাতিসংঘে আমাদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ফেলানী দিবস পালনের প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হউক।