ঝিনাইদহ সংবাদদাতাঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিজের বানানো প্রতিমায় নিজেই পুরোহিত হয়ে পূজা করছে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া হৃদয় সুত্রধর নামের এক কিশোর। হৃদয় সুত্রধর সরকারী নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ও থানা পাড়ার গোপাল সুত্রধরের ছেলে। সরেজমিনে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর শহরের থানা পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, নিজের বানানো প্রতিমার সামনে ধুতি পরে পূজার আনুসাঙ্গিক কাজ করছে। আর প্রতিমা দেখতে ভিড় করেছে এলাকার মানুষ। প্রতিমা দেখতে ছোট হলেও বেশ সুন্দর লাগছে। এ সময় হৃদয় সুত্রধর জানায়, ছোট বেলা থেকে আমার ইচ্ছা প্রতিমা তৈরি করা। ৫ম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিলাম। সরকার থেকে দেওয়া উপবৃত্তি ও আত্মীয় স্বজনদের টাকা জোগাড় করে এই প্রতিমা তৈরি করেছি। আশে-পাশের অনেক মানুষ প্রতিমা দেখতে এসে আমাকে সহযোগিতা করছে। সে আরো জানায়, প্রতিমা তৈরির খরচ করে আমার কাছে আর কোনো টাকা ছিল না। টাকার অভাবে ঢোলের ব্যবস্থা করতে পারিনি। সহযোগিতা পেলে আমার অনেক বড় প্রতিমা তৈরির করার ইচ্ছা। হৃদয়ের বাবা গোপাল সুত্রধর বলেন, আমি ফার্ণিচারের কাজ করি। একটি মেলায় গিয়েছিলাম দোকান দিতে। সেখান থেকে পূজা শুরুর একদিন আগে এসেছি।

আসার সাথে সাথে ছেলে বললো আমার প্রতিমা তৈরি হয়ে গেছে। পূজা করবো। তারপর তড়িঘড়ি করে ডেকোরেটর দিয়ে গেট বানিয়েছি। তিনি আরো জানান, ছেলের প্রতিমা দেখতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার ও ইউএনও মহোদয় এসেছিলেন। তাৎক্ষণিক ভাবে তারা দু’জনেই সহযোগিতা করেছেন। পরে আরো সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। হৃদয়ের মা সুমিত্র সুত্রধর বলেন, প্রতিমা তৈরি করা ওর বহুদিনের শখ। আশে-পাশের মানুষ প্রতিমা দেখতে বাড়িতে আসছে খুব ভালো লাগছে। হৃদয়ের স্কুল শিক্ষক মানিক ঘোষ জানান, এরকম ছোট মানুষ যে এতো ভালো প্রতিমা তৈরি করতে পারে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। অনেক বড় ভাস্করের থেকে ওর প্রতিমা অনেক সুন্দর হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার জানান, আমি থানাপাড়ার পূজা মন্ডপ দেখতে গেলে সেখানে উপস্থিত অনেকে আমাকে বলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোর প্রতিমা তৈরি করে নিজেই পুরোহিত হয়ে পূজা করে। সে অনেক ভালো প্রতিমা তৈরি করেছে। আগে থেকে না জানায় তাকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে।