আশুলিয়ার জিরাবো, কাঠগরায় অবস্থিত কোরিয়ান মালিকানাধীন হেসং কোরিয়া এর শ্রমিকরা মাননীয় শ্রম প্রতিমন্ত্রির হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বে-আইনীভাবে বন্ধ ঘোষনা, ২৭ জন শ্রমিককে বে-আইনী চাকুরীচ্যুতি এবং মজুরী সংক্রান্ত মালিকের দেয়া প্রতিশ্রুতি, আইন লঙ্ঘন-শ্রমিক নির্যাতনকারী ও ওয়াদা বরখেলাপকারী কোরিয়ার মালিক এর বিচার এবং কারখানা খুলে দেয়ার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।
 আজ ২০ মার্চ, ২০১৮, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর নিকট প্রদত্ত এক স্মারকলিপিতে তারা এই দাবী জানা। স্মারকলিপি প্রদানের পুর্বে জাতীয় প্রেসক্লাব এরস সামনে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচীতে প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিক অংশ নেয়।
ফেডারেশনের সভাপতি জনাব আমিরুল হক্ আমিন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ঃ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ ফাকরুখ খান, কবির হোসেন, মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ইসরাত জাহান ইলা, নাসিমা আক্তার ও হেসং এর চাকুরীচ্যুত শ্রমিক মোঃ হাসান, জাকির, সবুজ এবং জাহাঙ্গীর হোসেনসহ  প্র্রমুখ।
সংসহতি বক্তব্য রাখেন : জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি জনাব এম দেলোয়ার হোসেন।
        বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,আশুলিয়ার জিরাবো, কাঠগরায় অবস্থিত কোরিয়ান মালিকানাধীন হেসং কর্পোরেশন লিঃ এর মালিকের দেয়া প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করা এবং ২৭ জন শ্রমিককে বে-আইনীভাবে চাকুরীচ্যুতির প্রতিবাদ করায় হঠাৎ করে গত ১৪ মার্চ কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদেরকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে । মালিকের এই বে-আইনী কার্যকলাপকে অন্ধভাবে সহযোগীতা করছে শিল্প পুলিশ। অন্যদিকে মালিকের ভাড়াটিয়া মাস্তানদের আক্রমনের শিকার এই নিরিহ শ্রমিকেরা।
উল্লেখ্য : (১) এই কারখানায় জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃত্বে শ্রমিকেরা ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বেশকিছুদিন আগে থেকে। ইউনিয়ন গঠনের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করার জন্যই ম্যানেজম্যান্ট নানা ধরনের অশুভচক্রান্ত এবং সর্বশেষ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।
(২) এই কারখানার বায়ার হচ্ছে : ইন্ডিটেক্স ( INDITEX ), এইচ এন্ড এম (H&M), ভারনার গ্রুপ ( VARNER GROUP)।
হেসং কোরিয়ার শ্রমিকদের দাবীসমূহ
১. অবিলম্বে কারখানা খুলে দিতে হবে।
২. চাকুরীচ্যুত শ্রমিকদের চাকুরীতে পূনঃবহাল করতে হবে।
৩. মালিকের পূর্বে প্রতিশ্রুত হাজিরা দৈনিক নি¤œতম মজুরীহারে দিতে হবে।
৪. ইউনিয়ন গঠনে সকল অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
৫. শ্রমিকদেরকে হয়রানী, নির্যাতন এবং ভয়ভীতি বন্ধ করতে হবে।
      বক্তারা অবিলম্বে বন্ধ কারখানা খুলে দেয়া এবং চাকুরীচ্যুত শ্রমিকদের চাকুরীতে পূনঃবহাল এবং ইউনিয়ন গঠনের সকল বাধা অপসারনের  জন্য  সরকার, বিজিএমই, বায়ার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের  প্রতি জোর দাবী জানান।
সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে শ্রমমন্ত্রণালয়ের দিকে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। ফেডাশেনের সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফরিদুল ইসলাম, হেসং কোরিয়ার চাকুরীচ্যুত শ্রমিক মোঃ হাসান, সবুজ, জাকির এবং জাহাঙ্গীর ৫ জন প্রতিনিধি স্মারকলিপি পেশ করেন।
মাননীয় শ্রম প্রতিমন্ত্রী, জনাব মজিবুল হক চুন্ন প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান। তিনি তাৎক্ষনিকভাবে পরিদর্শন বিভাগের আইজি এবং লেবার বিভাগের মহাপরিচালকের সাথে কথা বলেন এবং দ্রুত ফয়সালার নির্দেশ দেন।