মেহেদী হাসান উজ্জল চড়ারহাট থেকে ফিরে-
১০ অক্টোবর (মঙ্গলবার)। চড়ারহাট গণহত্যা দিবস। ১৯৭১-এর এই দিনে দিনাজপুর-ফুলবাড়ী-ঢাকা আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন চড়ারহাট নামক স্থানে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয় শতাধিক নিরীহ নিরস্ত্র জনতাকে। নির্মম এই গণহত্যার কথা মানুষ ভুলতে পারে নাই। অক্টোবর এলেই এখানকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। গণহত্যার স্মরণে ১০ অক্টোবর “চড়ারহাট গণহত্যা” দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

সরজমিনে গত রবিবার চড়ারহাট গিয়ে সেই হত্যাযজ্ঞে শহীদ আবতার আলী মন্ডলের বড় ছেলে আতিয়ার রহমানের সাথে কথা বললে জানা যায়, ফুলাবড়ীর পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জের পুটিমারা ইউনিয়নের চড়ারহাটে (প্রাণকৃঞ্চপুর) ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা নিরীহ সাধারণ নারী-পুরুষকে ফযরের নামাজের সময় ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজ ভাল করার কথা বলে ডেকে নিয়ে একত্রিত করে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। গুলিতে আহত হয়ে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান ১১ জন।

শহীদদের সকলের লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ৯৮ জন শহীদের লাশ শনাক্ত করা হয়েছিল। যার ছিলেন চড়ারহাট (প্রাণকৃঞ্চপুর) গ্রামের এবং আন্দোলগ্রামের (সারাইপাড়া)। তবে সনাক্তছাড়া সেইদিন মোট শহীদের সংখ্যা ছিল ১৫৭ জন বলে অনেকেরই দাবী।

১০ অক্টোবর চড়ারহাট গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে সেইসব শহীদদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত হবে বলে এলাকাবাসী জানান।

স্বাধীনতার ৪০ বছরের মাথায় ২০১১ সালে সেই সময়ের নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার ফোরাম জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় কৃষক নওশের আলী মন্ডলের দানকৃত জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে একমাত্র চড়ারহাট শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ।
এলাকাবাসীর দাবি এ সময় গণহত্যায় নিহতদের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃৃতি প্রদান যথাযথ পূনর্বাসন করা, আহতদের যুদ্ধাহত হিসেবে স্বীকৃৃতির দেয়া হোক।

এদিকে শহীদদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে এলাকাবাসী চড়ারহাটে শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় ও শহীদ স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে।
প্রসঙ্গত সেই সময় আহতদের মধ্যে চড়ারহাটের ডাঃ এহিয়া মন্ডল (সম্প্রতি মৃত্যুবরণকারীর) পুত্র হোমিও চিকিৎসক এমদাদ জানান, ১৯৭১-এ যুদ্ধকালীন সময় ৯ অক্টোবর বিরামপুর উপজেলার আলতাদিঘী নামক স্থানে গরুর গাড়িতে করে কয়েকজন খান সেনা বিরামপুর ক্যাম্পে যাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধারা অতর্কিত হামলা করে ৭জন খান সেনাকে হত্যা করে। খান সেনাদের সাথে ২ জন রাজাকারও ছিল। ওই রাজাকাররা খান সেনাদের হত্যা করার খবর বিরামপুর ক্যাম্পে জানায়। খবর পেয়ে ক্যাম্প কমান্ডার একজন মেজর প্রতিশোধ নিতে হিং¯্র হয়ে উঠেন। তিনি তার ফোর্সদের নিয়ে ৯ অক্টোবর রাতেই পুটিমারা ইউনিয়নের চড়ারহাট(প্রাণকৃঞ্চপুর) ও আন্দোলগ্রাম(সারাইপাড়া) ঘেরাও করেন। ১০ অক্টোবর ভোর রাতে ওই গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষদের কাজের কথা বলে চড়ারহাট গ্রামের উত্তর-পূর্ব কোণের মাঠে সমবেত করে। একটি স্থানে সারিবদ্ধ করে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে ২ জন মহিলাসহ ১৫৭ জন শহীদ হন।