মোঃ ইউনুস আলী, লমনিরহাট প্রতিনিধি:

পুকুরের পানি থেকে বিউটি রানী রায় (২৫) নামে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী যুবতীর লাশ উদ্ধার নিয়ে ধ্রম্যজাল শুরু হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা এর কুল কিনারা পাচ্ছেনা এলাকাবাসী। জমি সংক্রান্তে মামলা জেড়ে পরিকল্পিতভাবে মেয়েটিকে হত্যা করে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হতে পারে বলে পরিবারের দাবি। অভিযুক্তদের দাবি, মেয়েটির মানুষিক ভারসাম্যহীন থাকায় পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হতে পারে। এই মৃত্যু সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নাই। তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটনের দাবি জানান এলাকাবাসী।

শনিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম নওদাবাস এলাকায় ৯ নং ওয়ার্ডে এ রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।
বিউটি রানী রায় উপজেলার পশ্চিম নওদাবাস গ্রামের বিরেন্দ্রনাথের একমাত্র মেয়ে। গত এক বছর আগে পুর্ব নওদাবাস এলাকার বিদ্যা বৈরাগীর ছেলে অতুল কুমার রায়ের সাথে তার বিয়ে হলেও সে বিয়ে ৩ মাসের মাথায় ভেঙ্গে যায়।

ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিউটি রানী রায় কয়েকদিন থেকে নিখোঁজ ছিলো। আজ সকালে পরিবারের লোকজন বাড়ি পার্শ্বে একটি পুকুরে তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, বিরেন্দ্রনাথের এই একটিমাত্র মেয়ে ছিলো। মেয়েটি এস,এস,সি পাশ করেছে। তার কোন মাথা খারাপ ছিলোনা। পারিবারিক শত্রুতার জেড়ে মেয়েটিকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেওয়া হতে পারে। তবে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি তদন্ত সাপেক্ষে উৎঘাটনের দাবী জানান এলাকাবাসী।

মৃত্যু যুবতীর বাবা বিরেন্দ্রনাথ সাংবাদিককে জানায়, দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবেশী মৃত্যু বিজেন্দ্র নাথের ছেলে গিরিশ (৭৫), দীনেশ (৭০), বিষ্ণু (৬৫) ও বিশার (৫০) এর সাথে জমিজমা নিয়ে মামলা চলছে। ইতিপূর্বে মেয়েটির বিয়ে হলে তারা সে সংসার টিকতে দেননি। একমাত্র মেয়ে হওয়ায় তারা পরিকল্পিতভাবে বিউটি রানী রায়কে হত্যা করে তার লাশ পুকুরের পানিতে ফেলে দিতে পারে।

মেয়েটির মা বালা মনি বলেন, আমার মেয়ের কোন মাথা খারাপ ছিলো না। সে শিক্ষিত ছিলো। সম্পত্তির লোভে তারাই (যাদের সাথে মামলা চলছে) মেয়েটিকে হত্যা করে পুকুরের পানিতে ফেলে দিতে পারে। আর তারাই এখন বলছে আমার মেয়ের মাথা খারাপ ছিলো। আমি এর বিচার চাই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বিউটি রানী রায়ের মা।

প্রতিপক্ষ মামলার আসামী গিরিশ চন্দ্র রায় বলেন, আমি ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানিনা। আজ সকালে জানলাম বিউটি রানী পানিতে পড়ে মারা গেছে।
বিউটি রানীকে হত্যা করে পানি ফেলে দেওয়া হয়েছে কিনা, এবিশয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাকে মারতে যাব কেন, মেয়েটির তো মাথায় সমস্যা আছে। মেয়েটি কারণেঅকারণে প্রায়ই বাড়ির বাহিরে বের হয়ে যেতো। মানুষিক ভারসাম্যহীন থাকার কারণেই মেয়েটির পানিতে পড়ে মৃত্যু হতে পারে।
তিনি আরও জানান, আমরা কেউ মেয়েটিকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেইনি। পুর্ব শত্রুতা থাকার কারণের এখন আমাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তদন্ত করলেই মেয়েটির আত্মহত্যার প্রকৃত রহস্য উৎঘাটন হবে বলে জানান গিরিশ চন্দ্র রায়।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নওদাবাস ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য নরেশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, তাদের মাঝে জমি নিয়ে বিরোধ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। মেয়েটির মানুষিক ভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। সে কারণে মেয়েটির পানিতে পড়ে মৃত্যু হতে পারে।

এ বিষয়ে নওদাবাস ইউপি চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার রায় বসুনিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিউটি রানী রায় একজন মানুষিক ভারসম্যহীন ও স্বামী পরিত্যক্ত নারী। গত কয়েক দিন ধরে সে নিখোঁজ ছিলো।

হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম হাসান সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়না তদন্তের সুরতাহাল রিপোর্টে জন্য লাশ লালমনিরহাট সদর মেডিকেলে পাঠানো হবে। রিপোর্ট আসার পর এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহয় করা হবে।