আজ ২২ অক্টোবর ২০১৭ রোজ রবিবার বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দীন আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও সরকার আজকের এই দিনটিকে নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এতে মনে হচ্ছে সরকার সড়ক নিরাপত্তায় অনেকটাই আন্তরিক হয়েছেন। তিনি বলেন, আজ অবধি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সকল নাগরিকের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও আহত সকল ব্যক্তির দ্রুত আরোগ্য লাভ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। বিগত দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন রকম তথ্য ও হিসাব প্রকাশ করেছেন। যার কারও সাথে কারোরই মিল নেই। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের নিয়ে এ ধরণের তামশা আর কোন দেশে হয় কিনা আমার জানা নেই। এই ধরণের বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান বন্ধ করে একটি সঠিক তথ্য ভান্ডার তৈরী করতে হবে। তবে এ কথা সত্যি প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আর যদি এ সকল দুর্ঘটনার নিহত ও আহত ব্যক্তিদের যে পরিসংখ্যা প্রকাশিত হয় তাতে করে হিসাব মিলালে দেখা যাবে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার পরিবার। এ কারণেই বিশ^ ব্যাংক বলছে ২০২০ সালের মধ্যে যদি সড়ক দুর্ঘটনা না কমানো যায় তাহলে এস ডি জি অর্জন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা মনে করি সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে জনসচেতনতা তৈরী, দক্ষ চালক, হেলপার তৈরী করার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। কারণ আজ সড়ক, মহাসড়ক, ফুটপাত সব দখল হয়ে গেছে। গাড়ীর ফিটনেস বা রুট পারমিট এমনকি লাইসেন্সও প্রদান কর হয় রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে কোন একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা কোন পত্রিকার পক্ষেও সম্ভব নয়। সকলকেই এ খাতে আন্তরিকতার পরিচয় প্রদান করতে হবে। বঙ্গবন্ধু যেমন মুক্তিযুদ্ধে তার আন্তরিতার ফলে দেশের ৭ কোটি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন বলেই দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করি যদি সকলেই হাতে হাত মিলিয়ে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে এসে বলি, ‘‘জাগো নাগিরক-থামাও মৃত্যুর মিছিল”। তাহলে অবশ্যই মৃতুর মিছিল থামানো সম্ভব হবে।