ঢাকা, ১৭ ফেব্রæয়ারি ২০১৮: আজ ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ও টেকসই উন্নয়ন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি সেমিনারে সুশীল সমাজ প্রতিনিধিরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে টেকসই উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের অত্যন্ত ভালো প্রস্তুতির দাবি উত্থাপন করেন। কারণ, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্যে যেসব সুযোগ পেত বাংলাদেশ, তা আর পাওয়া যাবে না। তারা আরো দাবি করেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষে বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইক্যুইটিবিডি এবং এলডিসি ওয়াচের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতির বক্তব্য রাখেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব কাজি খলিকুজ্জামান আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগের (জিইডি) সদস্য উর্ধ্বতন সচিব ড. শামসুল আলম এবং অন্যান্য বক্তারা হলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব জনাব মো. আনোয়ার হোসেন, ডাবিøউটিও সেলের পরিচালক ও যুগ্ন-সচিব জনাব মো. হাফিজুর রহমান। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন এলডিসি ওয়াচের আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী নেপালের গৌরি প্রধান। সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের উপ-পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক এবং সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ইক্যুইটিবিডি-র প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী।

সৈয়দ আমিনুল হক তার মূল বক্তব্য উপস্থাপনার এ বিষয়ে ইক্যুইটিবিডি ও এলডিসি ওয়াচের সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন, যা হচ্ছে, (১) সরকারের নিজস্ব বিনিয়োগ সামর্থ বাড়াতে কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে, (২) স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরনের মূল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি বাড়ানোর লক্ষে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে, (৩) উপকূলীয় মানুষ ও সম্পদ বাঁচাতে জলবায়ু মোকাবেলায় সক্ষম অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে এবং (৪) উন্নয়ন কার্যকারিতা বাড়াতে কার্যকর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে আমাদের জাতীয় মর্যাদা। এই মর্যাদা আমারা যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্জন করেছি, এটি কারো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়। বিশ্ব বাণিজ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলো যেসব সুযোগ সুবিধা ভোগ করে, এই উত্তরনের ফলে তার কিছু কিছু হয়ত আমরা হারাব, কিন্তু আমাদের এখন সামনে তাকাতে হবে, যাতে সাহায্যের বদলে আমরা নিজেরাই কিছু করতে পারি।

ড. শামসুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের উন্নয়ন চাহিদা শতভাগ পূরণ করছে না। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরনের কালে বাংলাদেশকে যে সংকট মোকাবেলা করতে হতে পারে তার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থাই হওয়া উচিত আমাদের মূল মনোযোগ। তিনি আরো বলেন, ২০২৭ সালের পর বাংলাদেশ নিজেই একটি বিনিয়োগকারী দেশে পরিণত হবে। ফলে আমাদের আর বৈদেশিক সাহায্য প্রয়োজন হবে না।

ডাবিøউটিও সেলের পরিচালক, যুগ্ম সচিব মো. হাফিজুর রহমান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবেও আমরা আমেরিকা বা রাশিয়ার মতো উন্নত দেশ থেকে ডবিøউটিও-র স্পেশাল এন্ড ডিফারেনশিয়াল ট্রিটমেন্ট সুবিধা পুরোপুরি পাইনি। এমনকি চীন ও ভারতের মতো বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশও আমাদের সেই সুবিধা দেয়নি। কাজেই নতুন করে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে সেসব সুবিধা আর আমরা পাবো না- এমন আশংকার অবকাশ নেই।

ইক্যুইটিবিডি-র প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরনের ক্ষেত্রে স্থায়িত্বশীলতার সচবেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ু ভিত্তিক দুর্যোগ ও বিদ্যমান বৈষম্য। জলবায়ু সহনীয় অবকাঠামো তৈরিতে আমাদের জোর দিতে হবে।

অতিরিক্ত সচিব জনাব আনোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, উত্তনের ফলে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে যেসব সুবিধা আমরা পেতাম, তার কিছু হয়ত আমরা হারাব। কিন্তু আমাদের পাবারও অনেক কিছু রয়েছে। মানসম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা বাড়াতে হবে।