স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারায় সাধারণ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব পাস হয়।

স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী এই প্রস্তাব আনেন। তাঁর প্রস্তাবে বলা হয়, ‘জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিপিডি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের অভিযাত্রায় যুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানানো হোক।’

এই প্রস্তাবের ওপর ২৯ জন সাংসদ প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, তাঁদের দল জাতীয় পার্টির সময় পোশাকশিল্প শুরু হয়েছিল। উপজেলা সৃষ্টি করেছিলেন এইচ এম এরশাদ। তিনি জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন চেষ্টা ও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তারই ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ বছর পর জাতীয় পার্টির সহযোগিতায় ক্ষমতায় এসেছিলেন। জাতীয় পার্টিও এই উন্নয়নের সহযোগী।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে রওশন বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে এই উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার অর্জন ধরে রাখা যাবে না। সুশাসন দরকর। সুশাসন ছাড়া গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না। ব্যাংক খাতে যে নৈরাজ্য চলছে, তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। অর্জন ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে পাকাপোক্তভাবে স্বীকৃতিটা পাওয়া যাবে। এই অর্জনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিও আছে। বৈদেশিক অনুদান ও ঋণসুবিধা কমে যাবে। এটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

রওশন বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। সে জন্য গত নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমরা চাই দেশ ভালো চলুক। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর সব উদ্যোগকে সহযোগিতা করি।’

অন্যদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সরকারি দলের সদস্য আবদুর রাজ্জাক, আবদুল মতিন খসরু, দীপু মনি, জাসদের শিরিন আকতার, তরীকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।