মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

মেয়ের বান্ধবীকে ফুসলিয়ে প্রেম করেন রেজাউল করিমের (৪২) নামের এক লম্পট শিক্ষক। পরে নোটারি পাবলিক ক্লাবের ৫ লক্ষ টাকায় কাবিনে বিয়ে করে বিভিন্ন জায়গায় দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে থাকেন ওই শিক্ষক। এরপরে ওই কলেজ ছাত্রী স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ওই শিক্ষকের বাড়িতে উঠলে তার স্ত্রীও সন্তানরা তাকে মারধোর করেন। ফলে ১৮ দিন ধরে ওই শিক্ষক বাড়ীতে স্ত্রীর দাবীতে অবস্থান করছেন রশিদা আক্তার (১৮) নামের এক ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী। আর এ ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের ৭ নং নবীনগর গ্রামে।

কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিম (৪২) ওই এলাকার মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে। সে ৩ সন্তানের জনক এবং তার মেয়ের বান্ধবী ওই ছাত্রী রশিদা আক্তার। রেজাউল স্থানীয় বাউরা পুনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজের কম্পিউটার শিক্ষক বলে জানা গেছে।

বুধবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজ ছাত্রী রশিদা আক্তার স্ত্রীর দাবীতে ১৮ দিন ধরে বাউরা ইউপির ১ নং ওয়ার্ডে মহিলা ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, বাউড়া পুনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজ এইচ,এসসিতে পড়তো রশিদা আক্তার (১৮)। ওই কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমের নজরে আসে রশিদা আক্তার। তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন ওই শিক্ষক। ওই শিক্ষকে মেয়ের বান্ধবী সুবাদে তার বাড়িতে যাতায়েত করত ওই কলেজ ছাত্রী।

ওই কলেজ ছাত্রী স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ওই শিক্ষকের বাড়িতে উঠলে তার স্ত্রীও সন্তানরা তাকে মারধোর করেন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বাউরা ইউপির ১ নং ওয়ার্ডে মহিলা ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে জিম্মায় রাখেন।

নির্যাতিত মেয়েটি উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুর রশিদের মেয়ে। আব্দুর রশিদ বাউরা পাবলিক দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী ছিলেন।

কলেজ ছাত্রী রশিদা আক্তার বলেন, কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে রেজাউল রশিদাকে বাগে আনার জন্য বিভিন্ন রকম ছলনার আশ্রয় নেয়। মেয়ের বান্ধবী হওয়ার কারণে প্রথমত আমাকে কখনো আম্মু ও কখনো মা বলে সম্বোধন করে রেজাউল। এভাবে কাছে ঘেষার সুযোগ তৈরী করে। এক পর্যায়ে তোমাকে একটা গোপন কথা বলতে চাই, দীর্ঘদিন ধরে বলি বলি করে বলা হয় না’ এমন বাক্যবাণে রশিদাকে হরহামেশাই বিদ্ধ করতে শুরু করে রেজাউল।

বিষয়টি কলেজের কোন স্টাফকে বলা যাবে না শর্তে আল্লাহর নামে এমন কসম করে কোরআন শরীফ হাতে তুলে দিয়ে রশিদাকে শপথ করিয়ে নেয় রেজাউল। একটা সময় শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠে রেজাউল। এইচএসসি পাসের পর রশিদা রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করতে গেলে সেখানেও রশিদার পিছু নেয় রেজাউল। এক পর্যায়ে আম্মু ডেকে চা খাওয়ানোর কথা বলে রংপুরের এক আবাসিক হোটেল নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন।

পরে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট নোটারি পাবলিক কার্যালয়, রংপুরে হলফনামার মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকায় বিয়ের কাবিন করেন শিক্ষক রেজাউল-রশিদা আক্তার।

রশিদা আক্তার আরও বলেন, আমার শরীরের ওজনে টাকা দিলেও আমি স্বামীর দাবি ছাড়ব না। আমরা বিয়ে করেছি। আমি স্ত্রীর দাবিতে অনড়।

পিতৃহীন রশিদার মামা শফিউল ইসলাম জানান, ১৮ দিন ধরে রশিদা আক্তার মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে আছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখতে চাইছেন, এভাবেই ১৮ দিন গত হল। ইতোমধ্যে আমাকে ৪ লক্ষ টাকার লোভ দেখিয়ে বিষয়টি রফাদফা করার কথা বলা হয়েছে কিন্তু আমি রশিদার কাছে শুনেছি সে স্বামীর ঘর করব। বিচার না পেলে থানায় মামলা দায়ের করব।

বিষয়টি নিয়ে কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমের সেল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার সেল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাউরা পুনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মহাদেব চাঁদ ভুতোরিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এখন থেকে তিন মাস আগে রেজাউল করিম কলেজের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। সে বাউরা ইউপির সফিরহাটের একটি ইফতেদায়ি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

বাউরা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বসুনিয়া দুলাল কলেজ ছাত্রী ও শিক্ষকের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বললেন, ‘আমি মেয়েটিকে মহিলা ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগমের হেফাজতে রেখেছি। বিষয়টি নিয়ে ভাবছি।

কয়েকজন অবিভাবক বললেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ এ রকম জঘন্য হলে মেয়েদের পড়াশুনার বিষয়টি অবিভাবকদের নিরুৎসাহিত করবে।