ঢাকা, ২১ অগ্রহায়ণ (৫ ডিসেম্বর) :
বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য এখন লাভজনক স্থান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০ স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ইকোনমিক জোনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। চীন, জাপান, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ এ সকল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। যে কোন বিনিয়োগকারী এখন শতভাগ বিনিয়োগ করতে পারবে এবং যে কোন সময় লাভসহ পুরো বিনিয়োগকৃত অর্থ ফিরিয়ে নিতে পারবে। এখানে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি ক্ষেত্রে দ্বৈত শুল্কনীতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংসদে আইন পাস করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে উন্নত বিশ^ থেকে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা পাচ্ছে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সে সুবিধা ভোগ করার সুবিধা পাবে। সৌদি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানানো হয়। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় সবধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করবে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশে সফররত সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের ২১ সদস্যবিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আগামী ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ সার্বিক পরিস্থিতি ও বিনিয়োগের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় এবং সৌদি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়। সৌদি ব্যবসায়ীগণ বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে। আগামীকাল এফবিসিসিআই আয়োজিত এক বিজনেস সেমিনারে সৌদি ব্যবসায়ীগণ যোগদান করবে।
সৌদি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্যগণ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, সোলারপ্যানেল এবং সার কাখানায় বিনিয়োগের বিষয়ে বেশ আগ্রহী। স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের বিষয়ে তারা চিন্তাভাবনা করছে বলে মতবিনিময় সভায় মতপ্রকাশ করে। অল্পদিনের মধ্যে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফর করে সে দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে এবং উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ সৌদি আরবে ১৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৬০৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। আগামী দিনগুলোতে উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে মতবিনিময় সভায় আশা প্রকাশ করা হয়।
সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গ্রুপ লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট মোশাবাব আব্দুল্লা আলখাহতানি।