আজ ২৪ মার্চ ২০১৮ শনিবার বিকাল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক পরিষদ এর উদ্যোগে “রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘে বিল তোলার, সার্ক (SAARC) কার্যকর করার, সু চি ও মায়ানমার সেনাবাহিনীকে মানবতা বিরোধী অপরাধে বিচার করার দাবিতে” মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন।

সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা দ্বিপক্ষীয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক। একমাত্র জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আরাকানে বার্মার সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বিজিপির সাথে মিলে রাখাইন বৌদ্ধ পুরোহিতরা নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর অমানবিক নিপীড়ন চালায়। হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, গৃহ থেকে উচ্ছেদ, জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রেরণসহ ভয়াবহ অমানবিকতার শিকার নিরীহ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, ভারত, মালয়েশিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়। নিকটতম প্রতিবেশী বাংলাদেশে কয়েক লাখ নির্যাতিত উদ্বাস্তু দীর্ঘকাল অবস্থান করলেও বার্মা কোনো সমাধানে এগিয়ে আসেনি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে হলে মায়ানমারের আরাকানকে জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে।

মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, জাতিসংঘ গঠিত কফি আনান কমিশন বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা, গুম, নারী নির্যাতন, শিশু হত্যা, অগ্নি সংযোগের ফলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার প্রমাণ পায়। আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নে জাতিসংঘকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দ্বিপাক্ষিক সমাধানের বাহানা করে নির্যাতনকারী মায়ানমার সরকার জাতিসংঘকে পাশ কাটানোর ফঁন্দি আটছে। বাংলাদেশ সরকারকে ওআইসি, আরবলীগ নেতারা যাতে জাতিসংঘে জোর তৎপরতা চালিয়ে আরাকানকে জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মৌলিক মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সাহায্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপচয় কিংবা দুর্নীতি না হয়।

তিনি আরো বলেন, সীমান্তে সেনা মোতায়েন করে উত্তেজনার সৃষ্টির ফলে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে অবিলম্বে বাংলাদেশ, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, তাজাকিস্তান বহুজাতিক সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট গঠন করতে হবে। ভারত ও চীনকে মানবতা বিরোধী নরহত্যায় সহযোগিতা ও সমর্থন এবং অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ সরকারকে দাবি উত্থাপন করতে হবে। সার্ক (SAARC) কার্যকর করলে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা সমস্যা প্রতিরোধ সম্ভব হবে।

এ সময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. হারুন-অর-রশিদ খান, সংযুক্ত মহিলা পরিষদের সভাপতি জান্নাত ফাতেমা, দার্শনিক আবু মহি মুসা, নারীনেত্রী তানিয়া সুলতানা, নাগরিক পরিষদ নেতা খাইরুল ইসলাম ও এড. এলিজা রহমান প্রমূখ।