‘বাজেট ২০১৮-১৯ঃ প্রেক্ষিত এসডিজি-৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, আমাদের গ্রামাঞ্চলের ১৩ শতাংশ মানুষ উন্নত উৎসের পানি সুবিধার আওতার বাহিরে আছে। সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা বিধান নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসডিজি অর্জনে পানি ও স্যানিটেশন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। রাজধানী ঢাকায় নিরাপদ পানির অভাব একটা অন্যতম কারন হয়ে দাড়িয়েছে। এসডিজি অর্জনে নিরাপদ পানি এখন সময়ের দাবি।

শনিবার (৫ মে) ইত্তেফাকের কার্যালয়ে ডরপ ও ইত্তেফাকের-এর যৌথ উদ্যোগে প্রাক বাজেট আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় বাজেট বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে বাজট বৃদ্ধির করাই নয়, এর যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। বৈষম্য দূর করতে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরী। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-৬ অর্জনে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জনপ্রতি বরাদ্দ ১১৪৫ টাকা নিশ্চিত করনে জোড় দাবী জানানো হয়।

বক্তারা নারী, পুরুষ এবং দরিদ্র জনগেষ্টীকে লক্ষ্য রেখে বাজেট প্রণয়ন করার কথা জোড় দিয়ে বলা হয়েছে। আর এজন্য সবগুলেমন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। ন্যায্যতা ভিত্তিক বরাদ্দ এবং সকলের জন্য পানি সরবরাহ বাড়ানোর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ইত্তেফাকের অর্থ ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক জামাল উদ্দীনের সঞ্চালনায় এবং ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক মলয় পাঁড়ে এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসন (চাঁদপুর-লক্ষীপুর) এর সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগম মুক্তা।

ডরপ এর চেয়ারম্যান মোঃ আজহার আলী তালুকদার এর স্বাগত বক্তব্যে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএস এর গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর ও ডরপ এর গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়েদ হাসান।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব বেগম হোসনে আরা আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, ডরপ এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হামিদুল হক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. ওয়ালী উল্লাহ, হেলভিটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ওয়াস এ্যালায়েন্সের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অলক কুমার মজুমদার, সাংবাদিক তারিক হাসান শাহরিয়ার, লেখক রোকেয়া ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশল আরিফ আনোয়ার খান, প্লানিং কমিশনের সহকারী প্রধান শেখ মইনুল ইসলাম মঈন, হেল্পএইজ দেশীয় পরিচালক রাবেয়া সুলতানা, সিইজিআইএস এর পরিচালক এটিএম শামসুল আলম, ওয়াটারএইডের পরিচালক ইমরুল কায়েস,  পাইকগাছা উপজেলার কপিলমনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কাউসার আলী জমাদ্দার প্রমুখ।

প্রতিমন্ত্রী মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, পানির গুরুত্বের শেষ নাই। পানি না থাকলে পানির কষ্ট বোঝা যায়। বিশ্বের অনেক দেশর নিজস্ব খাবার পানি নাই। তবে আমরা তো পানি পাচ্ছি। সচেতনতার অভাবে আমরা পানির অপচয় করি। অন্যদিকে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে পানি থাকার পরও মানুষ ব্যবহার করতে পারে না। ঢাকায় প্রতিদিন ২১১ কোটি লিটার পানি লাগে। যার বেশিরভাগ মাটির নিচে থেকে তুলতে হয়। পানির অপব্যবহার রোধ করতে হবে।

নূরজাহান বেগম মুক্তা বলেন, বর্তমান সময় পানির সমস্যা একটি বৈষিক ইস্যু। বাংলাদেশের পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পানির উৎস হিসেবে এখনই বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। নিরাপদ পানি হিসেবে বোতলের পানি কতটা নিরাপদ। ওয়াসার পানি বোতলজাত করে বাজারে বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর এসব বন্ধ করতে অসাধু ব্যবসায়ী তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ডরপ’র প্রতিষ্ঠাতা ও গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী এএইচএম নোমান এসডিজি লক্ষ্য অর্জনে দারিদ্য বিমোচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের মাতৃত্বকালীন ভাতা কেন্দ্রীক স্বপ্ন প্যাকেজ কর্মসূচীকে দেশব্যাপী সমপ্রসারণেরও আহ্বান জানান।