সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা: সামছুল আলম এক বিবৃতিতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বামমোর্চার ৩০ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবাব সারাদেশে ডাকা হরতালে সমর্থন জানিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার সমস্ত যুক্তি উপেক্ষা করে গায়ের জোরে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ গণশুনানিতে আমরা হিসাব দিয়েছিলাম বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য কমেছে, ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমেছে। এছাড়া সরকারের ভুলনীতি-দুর্নীতি পরিহার করলে কমপক্ষে ৭ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা যাবে। ডিজেলের পরিবর্তে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার, বেসরকারি বিদ্যুতের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গ্যাস সরবরাহ, দুর্নীতি, অপচয়, লুটপাট বন্ধ করলে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো নয় বরং প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৫৬ পয়সা কমানো সম্ভব। অথচ সরকার রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ ব্যবসায়ী, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী, বিদ্যুৎ আমদানিকারক, এলএলজি আমদানি কারকদের মুনাফা বৃদ্ধির স্বার্থে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারকে গরীব মেহনতী শ্রমজীবি মানুষের কথা ভেবে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির আঘাত নিম্নবিত্ত গরীব মানুষের জীবনের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। এতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গার্মেন্টস সহ স্বল্প আয়ের শ্রমজীবি মেহনতী মানুষ। বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়িভাড়া, পানির মূল্য সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিসের মূল্য বাড়বে। মুনাফা বাড়বে এক শ্রেণীর লুটেরা ব্যবসায়ীদের তার দায় বহন করতে হবে জনসাধারণকে। এমনিতে জনগণ চাল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা। তা নিরসন না করে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে জনগণের উপর চরম অর্থনৈতিক আঘাত নেমে আসবে।