কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন (সিপিএ) নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সিপিএ সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চার পাশাপাশি, দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্মল ব্রাঞ্চেস দেশগুলোর সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ৩৬তম স্মল ব্রাঞ্চেস কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
কমনওয়েল্থভুক্ত দেশ হলেও যেসব দেশের লোক সংখ্যা ৫ লাখের নীচে সেসব দেশের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ‘স্মল ব্রাঞ্চেস’। এ দেশগুলো পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং কমনওয়েলথভুক্ত সকল দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।
স্পিকার বলেন, তিন বছর মেয়াদে সিপিএ’র দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ সংস্থার উন্নয়নে সবসময়ই কাজ করেছেন।
ড. শিরীন শারমিন এ সময় উল্লেখ করেন,তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে আগ্রহী ও সংসদীয় রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সিপিএ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলে আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।
স্পিকার বলেন,জেন্ডার সমতা ও সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণেও সিপিএ ভূমিকা রাখছে।
জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব জীবনযাত্রাকে পরিবর্তন করে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতির হুমকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, প্যারিস চুক্তির আলোকে জলবায়ুর অভিঘাত ও ক্ষতি মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
স্পিকার বলেন, এ কনফারেন্সের মাধ্যমে স্মল ব্রাঞ্চের দেশগুলোর একত্র হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্রাঞ্চের দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সম্ভব হবে,–যা পরবর্তীতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্পিকার বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে পার্লামেন্টের ভূমিকা রয়েছে। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে সিপিএ’র পার্লামেন্টসমূহ কাজ করছে।
সিপিএ স্মল ব্রাঞ্চের চেয়ারপার্সন ও মাল্টা সংসদের স্পিকার এঞ্জেলো ফারুগয়া এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, সিপিএ অন্তর্ভূক্ত ৪৩টি দেশ রয়েছে যাদের জনসংখ্যা ৫ লাখের নিচে। এসব দেশকে সিপিএ’র ‘স্মল ব্রাাঞ্চ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এছাড়াও সিপিএ’র সেক্রেটারি জেনারেল আকবর খান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং তরুণ প্রজন্মের মেধাবীদের রাজনীতিতে আগ্রহী করে তুলতে সিপিএ সময়োপযোগি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশ সচেতনতা সংক্রান্ত মনোমুগ্ধকর একটি নৃত্যনাট্য পরিবেশিত হয়। এতে সচেতনতামূলক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।