১২ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় “দেবী” সিনেমার একটি পোস্টার ছাপা হয়েছে। পোষ্টারটিতে বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক অনুদানে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর গল্প “দেবী” অবলম্বনে নির্মিত ছবিটিতে নায়ক চঞ্চল চৌধুরীর ধূমপানরত ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। পোষ্টারে ধূমপানের দৃশ্য এমনভাবে প্রদর্শণ করা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ধারা ৫ (ঙ) এর সু-স্পষ্ট লঙ্ঘণ। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ৫ এর উপধারা (ঙ) তে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত বা লভ্য ও প্রচারিত, বিদেশে প্রস্তুতকৃত কোন সিনেমা, নাটক বা প্রামাণ্যচিত্রে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য টেলিভিশন, রেডিও, ইন্টারনেট, মঞ্চ অনুষ্ঠান বা অন্য কোন গণমাধ্যমে প্রচার, প্রদর্শন বা বর্ণনা করিবেন না বা করাইবেন না:
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় চরিত্র মিসির আলী। হুমায়ূন আহমেদ তার বলিষ্ট লেখনীর ছোঁয়ায় প্রখর চিন্তাশক্তি, যুক্তিবাদী এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বিশ্বাসী মিসির আলী চরিত্রটিকে পাঠকের আছে তুলে ধরেছেন। কুসংস্কারের বিরোধে উপন্যাসের মিসির আলী পাঠকের হাজার সমস্যার যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে সমাধানের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। এমন একটি চরিত্র এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় একজন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর ইমেজ কে ব্যবহার করে এধরনের একটি পোষ্টার তরুণ সমাজকে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে উৎসাহিত করবে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এটিকে তামাকজাত দ্রব্যের এক ধরনের পরোক্ষ প্রচারণা মনে করে। যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২০৪০ সালের মধ্যে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করবে।
সারাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যরত বেসরকারী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত মঞ্চ বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট আরো মনে করে, সরকার যেখানে এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রেও তামাক নিয়ন্ত্রণকে  প্রাধান্য দিয়ে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। সেখানে সরকারের অনুদানে নির্মিত ছবিতে ধূপানের দৃশ্যকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকাশিত এই পোস্টার বিরোধপূর্ণ। জোটের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই পোস্টারটি প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছি। সেইসাথে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের এ ধরনের লঙ্ঘণের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সেন্সর বোর্ড এবং তথ্য মন্ত্রণালয়কে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।