সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রোহিঙ্গা সমস্যা ও নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র উদ্যোগে আজ ১৩ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার, সকাল ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী হলে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রারম্ভিক ও সমাপনী বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক, জেএসডি সভাপতি জনাব আ স ম আবদুর রব। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেএসডি সাধারন সম্পাদক জনাব আবদুল মালেক রতন। উপস্থিত ছিলেন, এম এ গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, সুলতান আহমেদ বাচ্চু, এ্যাড. কে এম জাবের, কামাল উদ্দিন পাটওয়ারী, এস এম আনছার উদ্দিন , এ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, মোশারফ হোসেন, আবদুর রাজ্জাক রাজা, এস এম রানা চৌধুরী, কাজী আবদুস সাত্তার, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবুল হোসেন, মিজান উর রশীদ চৌধুরী, এ্যাড. মকবুল হোসেন, গোলাম রাব্বানী জামিল, ফিরোজ আলম মিলন, এম এ ইউসুফ, নুরুল আবছার প্রমুখ।
আবদুল মালেক রতন

দেশের রাজনীতি ও নিরাপত্তা প্রশ্নে আজ গভীর সংকট ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার স্বার্থে গণতন্ত্র, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও গণপ্রশাসনসহ রাষ্ট্রের অন্য সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এতে সরকারের পক্ষে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট, রোহিঙ্গা সমস্যা, যুদ্ধের উস্কানী ও য্দ্ধু কোনটাই মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। সরকার জনগণ থেকে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন। জনগণের কোন ধরনের আস্থা সরকারের উপর নেই। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া একটি মানবিক বিষয় হলেও দ্রুত এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় দীর্ঘ মেয়াদে তা দেশের জন্য অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য-পরিবেশগত ও নিরাপত্তা সংকটের সৃষ্টি করবে। সরকার মিয়ানমারের কুটকৌশল উপলব্ধিতে ব্যর্থ হয়ে বহু পাক্ষিক উদ্যোগের পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনীতির চরম ব্যর্থতা প্রতিফলিত হয়েছে। এখন ফেরত নেয়ার পরিবর্তে প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। এ সমস্যা যথার্তভাবে মোকাবেলায় সরকার কুটনৈতিকভাবেই ব্যর্থ হয়নি, বর্তমানে মিয়ানমার কর্র্তৃক যুদ্ধের উস্কানী দেয়ার পরও এ বিষয়ে জাতিকে অবহিত করা হয়নি; জাতিকে প্রস্তুত করা হয়নি- যা জাতির জন্য খুবই ভয়াবহ। এছাড়াও হত্যা, গুম-খুন-ধর্ষণ, অপহরণ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠন করে অবাধে বিদেশে পাচার করা সহ বিভিন্ন বেআইনী কর্মকান্ড দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিপজ্জনক করে তুলেছে। অপর দিকে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছাড়া করা হবে মর্মে অনেক মন্ত্রীদের বক্তব্য, সর্বশেষ ছুটির দরখাস্ত দিতে বাধ্য করার মাধ্যমে তাকে বিদায় করার মনোভাবেরই বহি:প্রকাশ ঘটেছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিই হুমকি সৃষ্টি করেনি-জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের মর্যাদাকে ভুলুন্ঠিত করেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমেই দক্ষ কুটনৈতিক তৎপরতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে হবে। জাতীয় ঐক্যকে দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থাশীল সরকার কায়েম করা একান্ত প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা গত ৮ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে নির্বাচন কমিশনে ১২ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছি, যা আপনারা ইতোমধ্যে অবহিত হয়েছেন।

১। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ নয়-বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং ইইউ,
ওআইসিসহ জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
২। মিয়ানমারের যুদ্ধ উসকানি সহ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে
হবে। ১০ লক্ষ স্বক্ষম যুবক-যুব মহিলাকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।
৩। রোহিঙ্গা সংকটে বৈশ্বিক রাজনীতিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মিত্র স্থাপনে ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
৪। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে কথিত ছুটি শেষে যোগদান করার নিশ্চয়তা প্রদান করে বিচার বিভাগের মর্যাদা
পুন:প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৫। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ, ভারতের পুর্বাঞ্চল, নেপাল, ভূটান, চীনের কুনমিং ও মিয়ানমারের
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে উপ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোট গঠন করতে হবে।
৬। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ক) অদলীয় নির্বাচনকালীন সরকার গঠন খ) নির্বাচনে ম্যাজিষ্ট্রেসী পাওয়ারসহ
সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকতে হবে, গ) নির্বাচনী তফসীল ঘোষণার পুর্বে বিদ্যমান পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়া সহ নির্বাচন
কমিশনে উত্থাপিত জেএসডি’র ১২ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে।