ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়াম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, একমাত্র ইসলামই সমতাবাদী সমাজের ধারণা সৃষ্টি করতে পেরেছে। ইসলামী সমাজে সমতাবাদী চেতনার প্রাধান্য রয়েছে। ইসলাম মানুষকে তার যোগ্যতা অনুসারে কর্মে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দেয়। ইসলাম ধর্ম অনেক বেশি মানবিক। এই ধর্ম বিশা^সের আওতায় সৃষ্টি হতে পেরেছে অনেক বেশি সমতাবাদী সমাজের ধারণা। ইসলামে অস্পৃশ্যতা ও বিভাজনের স্থান নেই। আহার বিহারে মুসলমানদের মধ্যে কোনো শুচমার্গ নেই। তিনি বলেন সমাজতন্ত্রের বিলুপ্তি ও পৃথিবীর সেকুলারিকরণ দূর্বল হয়ে পড়ায় ইসলামের দিকে ফেরার তাড়া দেখা দিয়েছে।
তিনি আজ সকাল ১০টায় পুরানা পল্টনস্থ নেজামে ইসলাম পার্টি আয়োজিত ”ইসলাম, পূঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র” শীর্ষক আলোচনায় সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। সহ-সভাপতি অধ্যাপক এহতেশাম সারোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন, সহকারী মহাসচিব আলহাজ¦ মোঃ ওবায়দুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, অর্থ সম্পাদক মুফতি আবদুল কাইয়ূম, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মোঃ আহসান, ইসলামী ছাত্র সমাজের মহাসচিব নুরুজ্জামান প্রমূখ।
তিনি বলেন, দেশের উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে মনের বিভেদ ও অসংগতি পরিহার করে সকলকেই সততা, নীতিনিষ্ঠা, কর্মশৃংখলা, আত্মবিশ^াস নিয়ে ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় যে কোনো ত্যাগ স্বীকারের প্রবৃত্ত হওয়ার জন্যে সর্বোতোভাবে প্রয়াস চালাতে হবে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও রাজনীতিক্ষেত্রে সকলকে সংঘবদ্ধ হতে হবে। সকল নাগরিকের ধর্মীয়, তমদ্দুনিক, গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, শাসনতান্ত্রিক ও অন্যান্য অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া সুদৃঢ়, স্থির, অচঞ্চল, দূরদর্শী অণির্বাণ দীপ শিখার মতো সদাজাগ্রত, সচেতন ও দূর্নীতিমুক্ত ইসলামী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে
তিনি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ^ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, পুঁজিবাদীরা ক’টনীতি গোয়েন্দানীতি, প্রচারনীতি, লগ্নিপুঁজি, বাণিজ্যনীতি ও যুদ্ধনীতি ইত্যাদি অবলম্বন করে পৃথিবীতে নিজের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা চায় পুঁজিবাদী বহুত্ববাদ । যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ণ, জাতিসংঘ, বিশ^ব্যাংক, আন্তজাতিক অর্থ তহবিলা, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ^বাণিজ্য সংস্থা, জি-এইট প্রভৃতি একযোগে পরিকল্পিতভাবে বর্তমান বিশ^ব্যবস্থার প্রক্রিয়াকে বিশ^বিস্তৃত পূঁজিবাদী ধারায় পরিচালনা করছে।
তিনি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ^ব্যবস্থা সম্পর্কে বলেন, সমাজতন্ত্রের দ্বিকেন্দ্রিক বিশ^ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি অবলম্বন করে ক্রমিক গতিতে তার আদর্শের প্রসার এবং সমাজতান্ত্রিক আন্তজাতিক বিশ^ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে চেয়েছিল। সমাজতান্ত্রিক নীতি-বিধি অত্যন্ত কঠোর ও জনগণের জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক । আর্থ-সামাজিক-রাষ্ট্রিক ও সাংস্কৃতিক সকল ব্যাপারে কর্তৃত্ববাদী । গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকরণ ঘোষিত মূল নীতি হলেও কার্যক্ষেত্রে সেটা কেবল কেন্দ্রীকরণের নীতিতে পর্যবসিত হয়। এতে আমলাতান্ত্রিকতা দেখা দেয় এবং প্রগতি ব্যাহত হয়। কিন্তু ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করতে পারেনি। বিধায় সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা ও কর্মধারা স্থায়িত্বলাভের উপযোগী হয়নি। তাই ১৯৯১ সালের ৩০ ডিসেম্বর আইনসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে পনেরোটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে বিভক্ত হয। তাঁরা মার্কসবাদ-লেলিনবাদ ত্যাগ করে পুঁজিবাদী গণতন্ত্র গ্রহণ করে। তাছাড়া সেভিয়েত ইউনিয়ণসহ পূর্ব ইউরোপের ১১টি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সাংবিধানিক উপায়ে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র রূপান্তরিত হয়ে যায়।
মাওলানা নেজামী ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, উনিবেশবাদী, সা¤্রাজ্যবাদী,ফ্যাসিবাদী, প্রভ’ত্ববাদী, শোষণবাদী, আগ্রাসী ও যুদ্ধাবাদী ভূমিকার ঘৃণ্য গ্রাস থেকে আত্মরক্ষার করে চলার জন্য ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকাশ ঘটাতে হবে। তাঁদের কূটনীতির মোকাবেলায় অবলম্বন করতে হবে ইসলামী আদর্শের সুচিন্তিত সাফল্যসম্ভব নীতি। পৃথিবীব্যাপী ইসলামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে পূঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক শক্তির মোকাবেলা করতে হবে।