দুর্যোগে ও উৎসবে বাঙালী ঐক্যবদ্ধ হয়। ঝাঁপিয়ে পড়ে যার যা আছে তাই নিয়ে।এরকমই একটি দুর্যোগে ২০০৫ সালে স্পেকটার্ম গার্মেন্টস ধসে দিনের পর দিন ভবনের ভিতর পিষ্ট হয়ে, আটকে থেকে ব্যাপক সংখ্যক শ্রমিকের প্রানহানী, পঙ্গুত্ব বরণ, উদ্ধার কাজে দীর্ঘ সুত্রিতা, এর আগের উপর্যুপরি দূর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি না হওয়া, দুর্বল পরিদর্শন ব্যবস্থা প্রভৃতি কারনে শ্রমিকের জীবনের প্রতি অবজ্ঞা ও উদাসীনতার নগ্ন চিত্র জাতীকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষেত্রের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা যখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ তখন ( ২০০৫ সালে) সবার জন্য নিরাপদ কাজের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, মানবাধিকার, শ্রমিক অধিকার, পরিবেশবাদী এবং উন্নয়ন সংগঠনসমূহের জোট শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফোরাম ধারাবাহিকভাবে সাধ্যমত প্রতিটি দূর্ঘটনা দুর্যোগে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, শ্রমিক আন্দোলনের সাথে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ ও এডভোকেসী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছে। পাশাপশি দূর্ঘটনার এবং কর্পোরেট নির্যাতন ও হত্যাকান্ডের তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি, যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শ্রম আইন সংশোধনপূর্বক সবার জন্য নিরাপদ কাজ, সকল শ্রমিকের অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়ে নিরাপত্তা ফোরাম কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যেই ঘটে গেছে তাজরীন অগ্নিকান্ড ও রানা প্লাজা ট্রাজেডি, যা কেড়ে নিয়েছে হাজার শ্রমিকের জীবন। পঙ্গু করেছে অগনিত মানুষকে। ভুলন্ঠিত করেছে জাতির ইমেজকে। নাড়া দিয়েছে বিশ্ব বিবেককে।

এই দুটি কর্পোরেট হত্যাকান্ডের পরে নেওয়া হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক উদ্যোগ। জাতীয় শ্রমনীতি ২০১২, জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নীতিমালা ২০১৩, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ প্রণয়ন এবং ২০১৩ সালে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর সংশোধনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত্র বিধানের উন্নয়ন করা হয়েছে। জাতীয় ভাবে শিল্প স্বাস্থ্য ও সেইফটি কমিটি ও কারখানা পর্যায়ে সেইফটি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। একর্ড, এ্যালায়েন্স ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় গার্মেন্টস শিল্পের নিরাপত্তা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রানা প্লাজা ও তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক ও তাদের পরিবারের আইএলও কনভেনশনের মানদন্ড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। এসবই ইতিবাচক উদ্যোগ যা আমরা স্বাগত জানিয়েছি। চেষ্টা করেছি সম্পৃক্ত থেকে অথবা সুপারিশ দিয়ে সহযোগিতা করার।

এসকল উদ্যোগের ফলে তৈরী পোষাক শিল্পে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অন্যান্য সেক্টর ও কর্মক্ষেত্রের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণই থেকে গেছে। গত পাঁচ বছরে নির্মাণ, চাতাল, সড়ক সহ অসংখ্য দূর্ঘটনা ও প্রানহানীর সংখ্যা সমগ্র বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ চিত্র আমাদের সামনে স্পষ্ট করে। প্রতিদিন কোন না কোন স্থানে দুর্ঘটনার শ্রমিক আহত বা নিহত হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় অদ্যাবধি কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া যায়নি; প্রতিদিন দেশে আসছে অভিবাসী শ্রমিকের লাশ, অভিবাসী নারী শ্রমিকদের দুর্দশার কথা আজ সর্বজনবিদিত। টাম্পাকো ফয়েল, দিনাজপুরের চাতাল, সিলেটের পাথর উত্তোলন, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, ট্যানারি ও চামড়াশিল্প, সর্বত্র অবহেলা, অবজ্ঞা আর অতি মুনাফালোভী কর্পোরেট লোভে বলী হচ্ছে শ্রমিক।

বাংলাদেশ আইএলও’র সদস্য রাষ্ট্রই শুধু নয়, আইএলও’র ’শোভন কাজ’ বাস্তবায়ন আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইনের সক্রিয় সদস্য রাষ্ট্র। আইএলও কোর কনকভেনশন সহ জাতিসংঘের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সনদের স্বাক্ষরদাতা দেশ বাংলাদেশ। এসকল সনদের অন্যতম বাধ্যবাধকতা হচ্ছে সকল নাগরিকের জন্য শোভন নিরাপদ কাজ নিশ্চিত করা। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক আমাদের সংবিধান শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের মুক্তি ও শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়ীত্ব নীতি হিসেবে নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ ২০৩০ সালের বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়নের একটি অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র । অতিশ্রীঘ্রই বাংলাদেশ যোগ দিচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশের সারিতে। এসকল দলিল, এজন্ডা, কর্মসূচীর সবকটিতেই শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শোভন কাজ নিশ্চিত করা ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য রাস্ট্রের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই আমরা ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ও সংবিধানের নির্দেশনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন দেখতে চাই। বাস্তবায়ন চাই রাষ্ট্রের সকল নীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের।

নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের জন্য আমাদের অঙ্গিকার, চলমান উদ্যোগ সমূহকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, উপরে উল্লিখিত নীতিসমূহের বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান ঘাটতি ও চ্যালেঞ্জ সমূহ মোকাবেলা করে সবার জন্য নিরাপদ কাজ নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও তাদের সংগঠন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবী ও আহবান। দেশের গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, জনগনের প্রতিনিধি গণের কাছেও রয়েছে আমাদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি শ্রমিক, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠন সমূহের ভূমিকা ও অংশগ্রহণের অঙ্গীকার সহ আজকের সম্মেলন থেকে নি¤েœাক্ত ঘোষণা উপস্থাপন করা হচ্ছে:

সকল কর্মক্ষেত্রকে আইনের আওতাভুক্ত করে সকল শ্রমিকের আইনী সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধান –
 পেশা, পদবী নির্বিশেষে প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক (উৎপাদন-সেবা), কৃষি, গৃহ সহ যে কোন ধরণের কাজ সম্পাদনের জন্য নিয়োজিত ও এর সাথে সম্পর্কিত সকল ব্যক্তির ( তার নিয়োগের ধরণ ও মেয়াদ যাই হোক না কেন) পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট আইন সমূহের সংশোধন করে যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা;
 বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এ সংশোধনীর মাধ্যমে উক্ত আইনের উদ্দেশ্য ও দেশের সংবিধান, আইএলও কনভেনশন সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সাথে সঙ্গতি রেখে সকল কর্মক্ষেত্রকে আইনের আওতায় আনা ও নিয়োজিত ব্যক্তিকে “শ্রমিক” হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা যাতে কোন ভাবেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত্র কোন আইনী সুরক্ষা থেকে কেউ বাদ না পরে;
 যে কোন স্থাপনা নির্মান, পন্য উৎপাদন ও পরিবহন সহ যে কোন কাজের ক্ষেত্রে উক্ত কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি সহ প্রতিবেশী, পথচারী সহ সকলের নিরাপত্তা, পরিবেশের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সমূহের সংশোধন;
 শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইএলও ঘোষিত ‘শোভন কাজ’ কর্মসূচী (যার বাংলাদেশ একটি প্রধান অংশগ্রহণকারী দেশ) পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং শোভন কাজের মানদন্ডের আলোকে শ্রমিকের চাকুরীর নিরাপত্তা, আইন অনুযায়ী ৮ ঘন্টা কর্মঘন্টা, ছুটি ও বিশ্রাম, ন্যায্য মজুরি, বৈষম্যের বিরূদ্ধে সুরক্ষা ও যথাযথ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। ফোরাম মনে করে দীর্ঘ কর্মঘন্টা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, শ্রমিকের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর;

 

কার্যকর শ্রম পরিদর্শন, পরিচালনা ও বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা :

 পরিদর্শন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের বর্তমান উদ্যোগের সুফল যাতে সকল শ্রমিক পায় সে লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় কার্যালয় স্থাপন ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং পরিদর্শক টাস্ক ফোর্স গঠন করে এসকল কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত ও ঝটিকা পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা। পরিদর্শকদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান ও নিয়মিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;
 আইন অমান্য ও অবহেলা জনিত কারনে দূর্ঘটনার জন্য শাস্তী ও জরিমানা বৃদ্ধি করা, পরিদর্শন বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন কর্মকর্তা নিয়োগ;
 শ্রম পরিদর্শন, ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্স সহ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহের মধ্যে তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে যৌথ পরিদর্শনের ব্যবস্থা চালু করা। প্রতিটি স্থাপনার কাজ শুরুর অনুমতি প্রদানের পূর্বে অকুপেন্সি সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করা;
 দেশে মাত্র সাতটি শ্রম আদালত যা শ্রমিকের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক অন্তরায়, ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করন ও দূর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা, শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতেও বিলম্ব ও বিড়ম্বনা হচ্ছে। শ্রম আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বিচার ত্বরান্বিত করার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন;
 আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্রের সকল দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

ক্ষতিপূরণ, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন:

দেশের আইনে এখনও ক্ষতিপূরণের পরিমান এক লক্ষ টাকা, যা সবার জন্য লজ্জাজনক। আইএলও কনভেনশন ১২১, রানা প্লাজা ও তাজরীন শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের মানদন্ডের আলোকে এবং বিশেষ করে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত সরওয়ার্দী কমিশনের সুপারিশ, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আদালতের বিভিন্ন রায়, সর্বোপরি স্কপ ও ফোরামের দাবী অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকের সারা জীবনের আয়ের ক্ষতি বিবেচনা করে শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ বিষয়ক জাতীয় মানদন্ড ও পরিমান নির্ধারণ;
 জাতীয় শ্রমনীতি ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নীতিমালার আলোকে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে পেশাগত রোগে আক্রান্ত ও দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকের চিকিৎসার জন্য প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ ইউনিট ও বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি। শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে ডায়াগনোসিস সুবিধাসহ চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।
 দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকের চিকিৎসা ব্যয় নিয়োগকারী কর্তৃক বহন নিশ্চিত করা এবং সারা দেশের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের স্থায়ী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
 সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সকল শ্রমিককে বীমার আওতায় আনার এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য পেনশন স্কিম গঠনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান করছি।
 শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য নিরাপদ চলাচল ও উপযুক্ত বাসস্থানের ও স্বাস্থ্য সেবা বিশেষ করে কারখানার ভিতরে ও আবাস স্থলে নারী শ্রমিকের জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করনে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করণে সরকারের ও মালিকের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
 সকল নারী, নারী শ্রমিক, বিশেষ করে আপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রের নারী শ্রমিকদের জন্য সরকারী উদ্যোগে বিশেষ স্কিম গঠনের মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন ও শিশু যতœ ভাতা প্রবর্তনের আহবান জানাচ্ছি।

শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব ও সংগঠিত হওয়া স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সেইফটি কমিটি গঠনের আইনী ব্যবস্থা বাস্তবায়ন:
 ফোরাম দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে যে শ্রমিকের সংগঠিত হয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও দরকষাকষিতে অংশগ্রহণের অধিকার একটি মানবাধিকার। আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে এই অধিকার নিশ্চিত করা হলে অতীতের আনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। দেশের সংবিধান শ্রমিককে অধিকার নিশ্চিত করেছে। এছাড়া শ্রম আইন অনুযায়ী সকল প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে দ্রুত সেইফটি কমিটি গঠন করার মাধ্যমে নিরাপত্তার প্রশ্নে শ্রমিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব;
অভিবাসী শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা :
 শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাসসমূহের সর্বোচ্চ ও সামগ্রিক সক্রিয়তা নিশ্চিতকরণ এবং বিদেশে আটক শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার, আশ্রয়, চিকিৎসা ও দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথ পুনর্বাসনের মাধ্যমে দেশের স¤পদে পরিণত করার জন্য যথাযথ উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এছাড়াও শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির নিশ্চিত না হলে শ্রমিক তার পরিবার নিয়ে মর্যাদাকর ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে পারে না। ফোরাম দৃঢ়তার সাথে শ্রমিকের ও তার পরিবারের মর্যাদা ও মৌলিক মানবিক প্রয়োজন নিশ্চিত করতে সক্ষম এবং দেশের উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সকল শ্রমিকের জন্য জাতীয় নি¤œতম মজুরি নির্ধারনের স্কপ সহ শ্রমিক আন্দোলনের দাবীর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এর লক্ষ্য অর্জন, দেশে বিদ্যমান দনী-দরিদ্রের ভয়াবহ বৈষম্য নিরসনের জন্য জাতীয় নূন্যতম মজুরি ঘোষণার ও সকল সেক্টরের জন্য উপযুক্ত মজুরি নির্ধারনে ফোরাম আহবান জানাচ্ছে;

 দেশের সমস্ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্তৃপক্ষ, সম্পাদক, অনুষ্ঠান নির্মাতা, সাংবাদিক-প্রতিবেদকগণকে শ্রম বিষয়ক সংবাদ, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং শ্রমিক হত্যা ও নির্যাতনের উপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনসহ ফলোআপ প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ করে সমাজের সকল ক্ষেত্রে অবহেলিত ও বঞ্চিত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরো অগ্রসর ভূমিকা পালন করতে আহবান জানাচ্ছি।

“নিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবীতে এগিয়ে আসুন”