শাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরের শ্রীবরদীর সীমান্তের গ্রামের ঘরে ঢোকে ইউরিয়া সার খেয়ে এক বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ভোরে উপজেলার রানীশিমূল ইউনিয়নের হালুহাটি গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা অর্ধশত বন্যহাতির একটি দল প্রায় প্রতিদিনের মতো সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামে ঘরের গোলা এবং ক্ষেতের ধান, কঁচি লতা-পাতা ও বিভিন্ন গাছের আগাছা খেয়ে যায়। বৃহস্পতিবার গভির রাতে ওই গ্রামে এক দল হাতি হামলা চালিয়ে ঘর-বাড়ি তছনছ করে ও এক ব্যক্তিকে পায়ে পৃষ্ট করে হত্যা করে। এ সময় গুরুতর আহত করে দু’জনকে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে বন্যহাতির দল হালুহাটি গ্রামের লালু রবিদাস, মাজেদ এবং অরফুলি পাগলি’র ঘর ভাঙ্গচুর করে গোলার ধান, চাল খায়। এসময় মাজেদের ঘরে রাখা এক বস্তা ইউরিয়া সার খেয়ে ফেলে। শনিবার ভোরে ফুট পয়েজিং হয়ে ওই ঘরের পাশে হাতিটির মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে শ্রীবরদী উপজেলার ভ্যাটেনারী সার্জন ডা. হাসান মাহমুদ জানান, প্রাথমিক ভাবে হাতির মৃত্যু কারণ হিসেবে ফুড পয়েজিং ধারনা করা হলেও ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এদিকে বন্যহাতির মৃত্যুর খবর পেয়ে শ্রীবরদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাসরিন, বন বিভাগের বলিঝুড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, শ্রীবরদী থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতি’র মৃতদেহ প্রর্দশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ঘর পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় এলাকার উৎসুক লোকজন হাতিটিকে এক নজর দেখতে ভির জমায়।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে এবং অসুস্থ হয়ে বেশ কয়েকটি হাতির মৃত্যু থবর পাওয়া গেলেও এবারই প্রথম বিষক্রিয়ায় হাতির মৃত্যু হলো।