শাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী বালিজুড়ি এলাকাতে জেনারেটরের তাঁরে জড়িয়ে এক বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে বালিজুড়ি অফিসপাড়া উডলট বাগান সংলগ্ন নেপালি টিলা নামক স্থান থেকে স্থানীয় বনবিভাগ ওই মৃত হাতিটি উদ্ধার করে।

বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা-আমন ক্ষেতে থোর আসায় গ্রামবাসীরা হাতির আক্রমণ থেকে ধান রক্ষা করার জন্য জেনারেটরের মাধ্যমে তার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে পুরো ক্ষেত ঘিরে রাখে। গেলরাতে কোন এক সময়ে হাতির পাল ওইসব ক্ষেতে হানা দেয়ার চেষ্টা করলে পালের একটি হাতি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করে।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের বালিজুড়ি সদর বিটের বিট কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, হাতিটি ৪ বছর বয়সি মার্দি। লম্বা ৭ ফুট ও প্রস্থ্য ৭ ফুট। তিনি আরও বলেন, গত ৪ মাসে এ নিয়ে অত্র বিট এলাকায় তিনটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি শ্রীবরদী থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বালিজুড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, একের পর এক হাতির মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে থানায় মামলা দায়ের করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বালিজুড়ি এলাকার মৃত ফটিক আলী মুন্সীর ছেলে আবু হাশেম ও একই এলাকার মৃত কালু শেখের ছেলে ছাবর উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ ৫বছর যাবত বন্যহাতি আমাদের এলাকায় এসে জানমালের ক্ষতি করছে এবং ফসল নষ্ট করছে। গত রাতে একদল বন্য হাতি এলাকায় এসে ফসল নষ্ট করে। এসময় স্থানীয় লোকজন মশাল নিয়ে হাতির দলকে তাড়ানোর চেষ্টা করে। সকালে ওই হাতিটি মৃত্যু অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর বালিজুড়ি রাঙ্গাজান এলাকার শালবাগান সংলগ্ন বন বিভাগের পতিত জমি থেকে একটি বন্য হাতির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ১৩ আগস্ট শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমূল ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা পাহাড়ি হলুয়াহাটি গ্রামে ইউরিয়া সার খেয়ে বিষক্রিয়ায় আরও এক বন্যহাতির মৃত্যু হয়।

এদিকে বন্য হাতির একের পর এক হামলা ও বাড়ি ঘরে ভাংচুরের ঘটনায় আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে সীমান্ত জনপদের মানুষ। স্থানীয়রা জানায়, এ মৌসুমে প্রতি বছরই খাদ্যের সন্ধানে ভারত থেকে লোকালয়ে নেমে আসে বন্য হাতির দল। দিনে বন্য হাতির দল পাহাড়ে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই লোকালয়ে নেমে এসে তান্ডব চালায়।