রানা প্লাজা ভবন ধসের পাঁচ বছর স্মরণে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স এবং দি ডেইলি ষ্টার এর যৌথ উদ্যোগে ‘রানা প্লাজার পাঁচ বছর: অভিজ্ঞতা, অর্জন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ২৩ এপ্রিল ২০১৮ দি ডেইলি ষ্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।

 

বিল্স ভাইস চেয়ারম্যান শিরীন আখতার, এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম আহবায়ক ড. হামিদা হোসেন, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মিকাইল শিপার, বিল্স মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, আইএলও কান্ট্রি অফিস বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গগন রাজ ভান্ডারি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ সামছুজ্জামান ভূঁইয়া, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান, পিএসসি, জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক প্রফেসর ডা. মোঃ আব্দুল গণি মোল্লা,  বিল্স উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য রায় রমেশ চন্দ্র, শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, মেসবাহউদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, সম্পাদক রওশন জাহান সাথী ও আব্দুল কাদের হাওলাদার, স্কপ এর যুগ্ম সমন্বয়কারী নইমুল আহসান জুয়েল, সিআরপি’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম, অ্যাকর্ড  বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েস, এফইএস এর কান্ট্রি ডিরেক্টর টিনা ব্লুম,  সিপিডির পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম,  ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ এর মহাসচিব মোঃ তৌহিদুর রহমান, বিল্স এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ প্রমুখ। এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, জাতীয় পর্যায়ের ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও মানবাধিকার সংগঠন, মালিকপক্ষের সংগঠন, পেশাগত স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, আইনজীবী ও মিডিয়াসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, জাতীয় পর্যায়ের ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও মানবাধিকার সংগঠন, মালিকপক্ষের সংগঠন, পেশাগত স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, আইনজীবী ও মিডিয়াসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা ভবিষ্যতে বড় ধরণের কর্মক্ষেত্র বিপর্যয় প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সকল পক্ষের উদ্যোগে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও যৌথ দর কষাকষির মাধ্যমে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুষম সম্পর্ক নিশ্চিত করা, সেই সাথে এধরণের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে নিশ্চিত করার বিষয়ে সুপারিশ করেন।

 

শ্রম আইনের সংশোধনের মধ্যে দিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সাবেক সচিব মিকাইল শিপার বলেন, প্লাস্টিক, কেমিকেল সহ গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। তিনি আরো বলেন, বিশ্বমানের তুলনায় বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই দূর্বল। গত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক একটি রূপদানের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মানদন্ড অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি দুর্ঘটনা বীমা চালুর বিষয়ে সুপারিশ করেন তিনি।

 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালকের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহাম্মেদ খান দুর্যোগ মোকাবেরায় শিল্প এলাকায় মিনি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

আইএলও ঢাকা অফিস অফিসার ইনচার্জ গগন রাজভান্ডারি বলেন, গত পাঁচ বছরে পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের সক্ষমতা ও পরিদর্শন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আরও কারখানাকে নিরাপদ ও সক্ষম করে তোলার যে কাজ  এখনও বাকী আছে তা সম্পন্ন করার জন্য আমাদের দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি  ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে মালিক-শ্রমিক পারস্পরিক আস্থার জায়গা তৈরী করে শিল্প সমস্যার সমাধান করতে হবে।

 

রানা প্লাজাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য, অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে একটি কাঠামোগত নিশ্চিয়তা দেয়ার পাশাপাশি সেটা বাস্তবায়নের মানসিকতা অর্জনে সক্ষম হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিল্স মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান।

সেফটি কমিটির প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া ও তথ্য প্রাপ্তির প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কার্যকরী সেফটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনে সেফটি কমিটিকে কার্যকরভাবে গড়ে তোলার বিষয়ে সুপারিশ করেন অ্যাকর্ড এর নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ।

কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে গার্মেন্টস ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহবায়ক ড. হামিদা হোসেন।

 

সংশোধিত শ্রম আইনের দূর্বল দিকগুলো তুলে ধরে বিল্স উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য রায় রমেশ চন্দ্র বলেন,সংশোধিত শ্রম আইনে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুণর্বাসনের বিষয়টি সুনিশ্চিত নয়। জাতীয় নির্মাণ নীতি সঠিকভাবে মেনে চলা এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি সুপারিশ করেন।

 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে শ্রমিকদেরকে বীমার আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের মজুরি কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে সুপারিশ করেন।