শাকিল মুরাদ, শেরপুর:

শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তের পাহাড়ি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট ও পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আদিবাসীরা। ১৩ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে জেলা শহরের চকবাজারস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে শ্রীবরদী পাহাড়ি সমাজ, বাগাছাস ও বর্মণ ছাত্র পরিষদ ওই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, শ্রীবরদী সীমান্তের গারো পাহাড়ঘেঁষা কর্ণঝোরা এলাকায় ঢেউপা নদী ও বালিজুরি এলাকায় মার্সী নদী থেকে প্রভাবশালী অশুভ মহলের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় মেঘাদল, চান্দাপাড়া ও বাবেলাকোনা আদিবাসী অধ্যূষিত এলাকায় জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। বাবেলাকোনা ব্রিজ ও বাবেলাকোনা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। সারাদিন ওই জনপথ দিয়ে ট্রলি ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে চরমভাবে শব্দদূষণ হচ্ছে। রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনসহ কোন দায়িত্বশীল মহলই বিষয়টি দেখেও দেখছেন না। অবিলম্বে ওই বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন বলেও হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

শ্রীবরদী পাহাড়ি সমাজের আহবায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উন্নয়ন দালবতের সভাপতিত্বে ও আনসেং সাংমার সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাগাছাস নেতা কাঞ্চন মারাক, কাজল হাউই, জীবন ম্রং, অনিক চিরান, বর্মন ছাত্র পরিষদ নেতা মিঠুন বর্মন, পবিত্র বর্মন প্রমুখ। এতে আদিবাসী জনগোষ্ঠির প্রায় ২ শতাধিক যুবক-যুবতী অংশ নেয়।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড.মল্লিক আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা যতই প্রভাবশালী হোক তাদের আমরা কোনভাবেই ছাড় দিবনা। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত আছে, এই পর্যন্ত অবৈধ বালু উত্তোলনের কাছে ব্যবহৃত ৩৭ টি মেশিন জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।