শাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরের পল্লীতে তৃতীয় শ্রেণি পড়–য়া শিশু (১১) ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় একমাত্র আসামী ধর্ষক জসিম উদ্দিনকে (২৭)কে গ্রেফতার ও বিচার দাবি এবং ওই শিশুর ডাক্তারী পরীক্ষাা নিয়ে মহল বিশেষের যোগসাজসে জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ নাহিদ কামাল কেয়ার অনিয়মের পাঁয়তারার প্রতিবাদে মানববন্ধনসহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ১৬অক্টোবর সোমবার সকালে শহরের নিউমার্কেট সড়কে হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন শেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি এসএম শহীদুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ মাসুদ ও ধর্ষিতার হতদরিদ্র পিতা।

ওইসময় একাত্মতা পোষণ করে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার জিন্নাত আলী, কবি সংঘ’র সভাপতি তালাত মাহমুদ, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোঃ মেরাজ উদ্দিন, দুদকের পিপি এডভোকেট মোখলেসুর রহমান জীবন, জেলা মানবাধিকার কমিশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন প্রমূখ।

বক্তারা অবিলম্বে ধর্ষক জসিমকে গ্রেফতার দাবিসহ বিশেষ মহলের যোগসাজসে জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ নাহিদ কামাল কেয়ার অনিয়মের পাঁয়তারা বন্ধ করে ধর্ষিতা শিশুর সঠিক ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানের দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গণি ও সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ রেজাউল করিমের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর বিকেলে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের দশকাহনীয়া গ্রামের হাতু মিয়ার ছেলে ২ সন্তানের জনক জসিম উদ্দিন (২৭) স্থানীয় হতদরিদ্র তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে (১১) জোরপূর্বক একটি ধান ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় ধর্ষিতা শিশুর বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় জসিম উদ্দিনকে একমাত্র আসামী করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় ভর্তির পরদিনই ধর্ষিতা শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়ায় তার ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানে ষড়যন্ত্র ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে খোদ আরএমও’র বিরুদ্ধে। এছাড়া মামলার ১০ দিন পরও ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ে তার পরিবারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।