জেলার নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদা লঞ্চ ঘাট এলাকায় পদ্মার নদীনের ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নোঙ্গরকরা ৩টি লঞ্চ নদীতে তলিয়ে গেছে ও ভেসে গেছে ২টি লঞ্চ। লঞ্চে থাকা ১ জন নবজাতক, দুই নারী যাত্রী ও লঞ্চ কর্মচারী সহ অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। ১২ জন লঞ্চ কর্মচারী সহ ১৫ জনের পরিচয় জানিয়েছে পুলিশ। তবে স্থানীয়দের মতে আরও নিখোঁজের আশংকা রয়েছে।
উদ্ধার কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান কমডর মোজােেম্মল হক বেলা ১ টায় ঘটনাস্থলে পৌছে তদারকি করছেন।
সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় নড়িয়ার ওয়াপদা লঞ্চঘাটে নোঙর করা মহানগরী, মৌচাক ও নড়িয়া-২ লঞ্চ তিনটি তলিয়ে যায়। এসময় সুরেশ্বর-২ সহ অপর একটি লঞ্চ ভেসে গেছে।
ইতিমধ্যে শরীয়তপুর নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মচারী ডুবে যাওয়া লঞ্চ ও নিখোঁজদের উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নারায়নগঞ্জ থেকে প্রত্যয় নামে বিআইডাব্লুউটিএ এর একটি উদ্ধারকারী জাহাজ, ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরী দল ও খুলনা থেকে নৌ বাহিনীর ১৫ সদস্যের একটি ডুবুরী দল ডুবে যাওয়া লঞ্চ ও নিখোঁজদের উদ্ধারে রওয়ান দিয়েছন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ঘটনাস্থলে পৌছতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোববার রাত ১০ টায় ঢাকার সদরঘাট থেকে মৌচাক লঞ্চটি যাত্রী বোঝাই করে ছেড়ে আসে। ওই লঞ্চে নড়িয়া পৌরসভার লোনসিং এলাকার মোহাম্মদ আলী ফকিরের প্রসূতী স্ত্রী পারভীন আক্তার তার ৪ দিনের নবজাতক ও পারভীনের মা ফকরুন্নেছা ছিলেন। এছাড়াও ৩টি লঞ্চের অন্তত ২০জন স্টাফ নিখোঁজ রয়েছেন।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, তিন যাত্রীসহ লঞ্চস্টাফ রবীন সিকদার, লিটন শেখ মানিক সরদার, বশির, রফিক, জাকির, পলাশ, সজল তালুকদার, শাহ আলম ও সালাউদ্দিন।
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন ট্রলার নিয়ে নদী থেকে ৬ জন লঞ্চ স্টাফকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেছে। প্রসূতী পারভীন আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ আলী তার সন্তান, স্ত্রী ও শাশুড়িকে হারিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ বলেন, লঞ্চডুবির সংবাদ জানান সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থালে পৌছায়। নৌ পুলিশের একটি দল ও ফায়ার সার্ভিস ইতোমধ্যে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন। আমরা ১৫ জন নিখোঁজের নাম জানতে পেরেছি। ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও খুলনা থেকে বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরী দল ইতোমধ্যে শরীয়তপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান কমডর মোজােেম্মল হক বলেন, নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আশা করছি উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌছলে উদ্ধার কাজে আরও গতি সঞ্চার হবে।