রোহিঙ্গা সমস্যা আজ মিয়ানমার কর্তৃক মানবতা-বিরোধী অভিযানের অংশবিশেষ হিসাবে অভিহিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যাকে রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যা বললে অত্যুক্তি করা হবে না। অথচ এ রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে মানবিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সীমাহীন ক্ষতি হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সবাই রোহিঙ্গা ইস্যুতে সোচ্চার হলেও অং সান সুচি আজ বধির। আজ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কুপ্রভাব বাংলাদেশে এসে পড়েছে। ১৯৭৪ সালে নি উইন সরকার মিয়ানমারে সম্পূর্ণ অমানবিকভাবে সেদেশের জাতীয় সংখ্যালঘু হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি। মিয়ানমারের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স হচ্ছে ০.৫৫৬, অবস্থাদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে মানুষ দরিদ্র হচ্ছে। তাদের লাইফ এক্সপেকটেন্সি হচ্ছে ৬৬.১ বছর, শিক্ষায় নেয় গড়ে ৯.১। তাদের রাষ্ট্রের গড় হচ্ছে ১৪৫।
কফি আনান কমিশনের প্রস্তাব মিয়ানমার সুচতুরভাবে বাস্তবায়ন করছে না। হিংস্রতা, গণধর্ষণ, মানব হত্যা, ভুখা-নাঙ্গা আর কর্মহীন করে রাখার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদেরকে একটি অমানবিক দৃষ্টির সীমারেখায় পৌঁছে দিচ্ছে। এক হিসাবে দেখা যায় কেবল চলতি বছরের ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অমানবিক কর্মকাণ্ডে এক হাজার আটশ’ কোটি ডলার রোহিঙ্গাদের ক্ষতি হয়েছে। যারা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করছে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করার জন্যে আহ্বান জানাচ্ছি। মিয়ানমার আজ সকল আইন-কানুন ন্যাযতার ঊর্ধ্বে উঠে অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাত্পদ হচ্ছে, পাশাপাশি বাংলাদেশের  উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে একের পর এক চক্রান্ত করে চলেছে। ইতোমধ্যে নতুন করে সাত লাখ রোহিঙ্গা এদেশে এসেছে। বাংলাদেশে সরকারের উচিত বছরের পর বছর মিয়ানমারের রিফিউজিরা বাংলাদেশে থাকায় যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তার ইতিহাস তুলে ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করে মিয়ানমারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা। কফি আনানের সুপারিশ মানতে সবাইকে বাধ্য করা উচিত। নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত উভয় আশ্রয় কেন্দ্রে যেভাবে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে তার জন্যে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন তার যোগান বাংলাদেশের ন্যায় ক্ষুদ্র দেশ কোথা থেকে দেবে।
বিশ্ববিবেকের কাছে প্রশ্ন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এহেন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড মিয়ানমার চালিয়েছে এর ক্ষতিপূরণ কিভাবে পাবে? বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্যে রোহিঙ্গা ইস্যু সামগ্রিক অর্থে সমস্যার উদ্রেক করেছে। রিফিউজি সমস্যা সমাধান না করে বরং এভাবে মিয়ানমার যে বছরের পর বছর তাদের দেশের নাগরিকদের আমাদের দেশে পাঠাচ্ছে তাতে প্রতিবছরে গড়ে ১০০০ কোটি ডলারের অধিক ক্ষতি হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় হয়েছে আরে অনেক বেশি। ১৯৭৮ সালে যখন এদেশে পাঠায় তখন রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ছিল ২৫০,০০০। আন্তর্জাতিক মাইগ্রেশন সংস্থা মনে করে যে, অনুগ্রহকারীরা এদেশের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে অক্ষম।