বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবর্তনে আজ এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে ওই দেশের সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের সহিংস ধ্বংসযজ্ঞের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার স্বদেশে প্রত্যাবর্তনে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে দ্ইু দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, নেপিদোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের ইউনিয়ন মিনিস্টার উকিয়া তিন্ত সোয়ে এই সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। উভয় দেশের কর্মকর্তাদের কয়েক মাসের প্রয়াসের পর গতকাল মিয়ানমারের রাজধানীতে এই স্মারকের খসড়া প্রণীত হয়।
পরে গতকাল বিকেলে দু’দেশের মন্ত্রীদ্বয়ের বৈঠকে এই খসড়া চূড়ান্ত হয়।
চুক্তিতে বলা হয়, দু’মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। দ্রুত প্রত্যাবর্তনে তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনা গঠিত হবে।
মাহমুদ আলী আজ মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ পুনর্বাসন মন্ত্রী উ উইন মিয়াত আইয়ের কার্যালয়ে তার কাছে রাখাইন রাজ্যের জন্য বাংলাদেশ সরকারের উপহার হিসেবে দেয়া ৩টি এ্যাম্বুলেন্সও হস্তান্তর করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে ৪৫ মিনিটের বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি ও যোগাযোগসহ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মাহমুদ আলী ও তিন্ত সোয়ে ১৯৯৮ সালে সম্পন্ন নাফ নদীর উত্তরে স্থল সীমান্ত চিহ্নিতকরণ চুক্তির অনুসমর্থন দলিলও বিনিময় করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে এর আগে ২০০৭ সালে নাফ নদীতে সীমানা নির্ধারণ সম্পর্কিত সমঝোতার বিষয়ে সম্পূরক প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।