রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার ‘কূটনৈতিকভাবে এতিম’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও নেতারা বলেছিলেন— চীন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আকাশচুম্বি। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করে ফিরে এসে বলেছিলেন— আমাদের দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক হিমালয়ের মতো উচ্চতর। কিন্তু যখন রোহিঙ্গা সমস্যা শুরু হয়েছে তখন আর চীন ও ভারত বাংলাদেশের পক্ষে নেই। এতেই প্রমাণ হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় নেই বলে কূটনৈতিকভাবেও এতিম হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার।’

তিনি বলেন, এই সরকার যেভাবে কূটনৈতিকভাবে এতিম হয়ে পড়েছে, একইভাবে দেশের জনগণের কাছেও এতিম হয়ে গেছে। তাই একমাত্র জনগণের সমর্থিত সরকারই পারবে সারা বিশ্বে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের যে দুর্বল রেজ্যুলেশন দেওয়া হলো তাতে দেশের মানুষ হতাশ। মিয়ানমার সরকার যেভাবে একটি জাতিগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে, তাদের এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে করে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে সকল দেশের সহযোগিতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।

ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সমস্যার শুরুতে সরকার যদি সঠিকভাবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারতো তাহলে রাখাইনে এ ধরনের গণহত্যা পরিচালনা করা মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা সরকারের পক্ষে সম্ভব হতো না। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ব্যর্থতার কারণে এতো বড় গণহত্যা হয়েছে। এই হত্যাযজ্ঞের কারণে বাংলাদেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে সসম্মানে মিয়ানমার সরকারকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।

প্রয়াত নেতা হান্নান শাহের কর্মময় জীবন এবং দলের প্রতি তার আনুগত্যের নানা স্মৃতি তুলে ধরে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘হান্নান শাহ ছিলেন আমাদের দলের জন্য একটি বলিষ্ঠ স্তম্ভ। দলের প্রতিষ্ঠাতা ও দলের নেতৃত্বের প্রতি তার আনুগত্য তুলনাহীন ও নেতা-কর্মীদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, কর্নেল (অব.) এম এ লতিফ, কেন্দ্রীয় সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মেজর (অব.) মিজানুর রহমান, যুব দলের সাইফুল ইসলাম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের আকরামুল হাসান, গাজীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, প্রয়াত হান্নান শাহের ছোট ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান প্রমুখ।