রাজশাহীতে পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ রেখা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকাল পৌনে ৬ টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের চিকিসৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে রেখা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ওই বিকালে শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিলো। সোমবার দুপুরের দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে বার্ণ ইউনিট থেকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আইসিইউতে নেয়ার আগেই স্বামীর পরকীয়ার বলি হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রেখা বেগম।
রামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিটের ইনচার্জ ডা. আফরোজা নাজনিন জানান, রেখার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। উপরন্তু তার ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপ থাকার কারণে শরীরিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রেখা বেগমকে সুস্থ করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছিলেন তারা। কিন্তু চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়েরকৃত রেখা বেগমের সহোদর নওশাদ আলীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেরদৌসি তার (রেখার) বাল্যকালের বান্ধবী। দুইজনে একসঙ্গেই লেখা পড়া করেছেন। এ সুবাদে  রেখার স্বামী কামরুল হুদার সঙ্গে ফেরদৌসি পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে ফেরদৌসী আগুন ধরিয়ে দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার রাতেই পুলিশ কসাইপাড়ার আলম হোসেনের মেয়ে ফেরদৌসিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়।
এদিকে, গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে রেখার স্বামী কামরুল হুদা নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় আত্মসমর্পণ করেন। তারা দুইজনেই বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।