মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

কোচিং সেন্টারে একাধিক ছাত্রীর সাথে যৌন নিপীড়নকারী শিক্ষক “মেহেদী হাসান সুমন” এর স্থায়ী বহিষ্কার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়!
বৃহস্পতি (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা পর্যায়ের ছাত্রলীগ, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দসহ কয়েকশত ছাত্র ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

হাতীবান্ধা এলাকাবাসীর আয়োজনে এতে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান মামুন, সাধারণ সম্পাদক ফাহিম শাহরিয়ার খান জিহান, সহসভাপতি প্রিন্স, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, কলেজ ছাদলের সাধারন সম্পাদ আপেক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সেলিম হোসেনসহ আরও অনেকেই।

আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজ থেকে ঐ শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্তের পরিবর্তে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত, যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্যয জোড় আহ্বান জানান বক্তাগণ।

তারা আরও বলেন, পরিমল জয়ধর নামিও এই মেহেদী হাসান সুমন, এর এগেও হাতীবান্ধা পারুলিয়া ও বড়খাতা নামক একায় একাধিক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তাকে ঐ এলাকা হতে বিতাড়িত করা হয়। সুমনকে ধরে আইনের আওতায় এনে যদি কঠিন শাস্তি দেওয়া না হয়, তাহলে এই পরিমল নামিও শিক্ষকের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাবে।

পরিমল নামিও এই ধরনের শিক্ষকের হাত থেকে কোমল মতি শিক্ষার্থীদের ইজ্জত রক্ষার্থে যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষক নামের কলঙ্ক মেহেদী হাসান সুমনকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাকে ঐ কলেজ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে। তা নাহলে কঠোর আন্দোলনে যাবার হুমকি দেন ছাত্র নেতাগন।

উল্লেখ্য (২৩ সেপ্টেম্বর) হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অনার্সের ইংরেজি শিক্ষক মেহেদী হাসান সুমনের সাথে একাধিক ছাত্রী আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ হয়। এনিয়ে শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়।
পরে ২৪ সেপ্টেম্বরে ঐ শিক্ষক সুমনকে কলেজ থেকে বহিষ্কার ও তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য উপজেলা ছাত্রলীগ ও কলেজ ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খানের নিকট পৃথক পৃথক ভাবে আবেদন দেন।

ছাত্র নেতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজ কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ঐ তদন্ত কমিটি একাধিক ছাত্রীর সাথে শিক্ষক সুমনের অনৈতিক কাছের আংশিক প্রমান পেলে (২৫ সেপ্টেম্বর) তাকে কলেজ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ সরওয়ার হায়াত খান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও লালমনিরহাট-১ আসনের সাংসদ সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনকেও অবহিত করি।

২৫ তারিখে গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মেহেদী হাসান সুমনকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন (২৬ সেপ্টেম্বর) ঐ সিদ্ধান্ত জানিয়ে ডাকযোগে চিঠি পাঠানো হয়েছে প্রভাষক সুমনের কাছে।

কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে অধিকতর তদন্ত ও তা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রভাষক মেহেদী হাসান সুমন বলেন, আমি একটি মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার। বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানিয়েছি। এই বিপদ সাময়িক। একদিন নিশ্চয় সত্যের জয় হবে।