ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হাজীপাড়া গ্রামে যৌতুকের দাবিতে খাটের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আঞ্জুয়ারা বেগম (৩১) নামে এক গৃহবধূ। শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এমন অভিযোগ করেন তিনি।
আঞ্জুয়ারা বেগম সদর উপজেলার ওই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী এবং তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের ফকিরপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে।
আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসে হাজীপাড়া এলাকার মো. জবান আলীর ছেলে আব্দুস সাত্তারের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে প্রায় সময় স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন আঞ্জুয়ারাকে মারপিট করতেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় তার। সে সময় তার স্বামী আব্দুস সাত্তার, শ্বশুর জবান আলী, শাশুড়ি সবুরা বেগমসহ ওই পরিবারের লোকজন ঘরের দরজা বন্ধ করে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করেন।
এমনকি খাটের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারপিট করে তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। খবর পেয়ে আঞ্জুয়ারার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ওই গৃহবধূ ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
চিকিৎসক শুভেন্দু কুমার দেবনাথ বলেন, ‘আঞ্জুয়ারা বেগমের ডান হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং মাথায় ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের দাগ রয়েছে।’
রুহিয়া থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ‘গৃহবধূকে মারপিটের ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কিন্তু এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত স্বামী আব্দুস সাত্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।