ঢাকা, ২ অক্টোবর:
দেশের শতকরা ৭২ভাগ লোক গ্রামে বসবাস করে এবং দেশের মোট গৃহের ৮১ভাগ গ্রামে অবস্থিত। এই ৮১ভাগ গৃহের মধ্যে ৮০ ভাগই নি¤œমানের কাঠামো। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যত্রতত্র বাড়িঘর নির্মাণ করায় প্রতিদিন প্রায় ২৩৫ হেক্টর কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে দেশ খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েবে।
আজ বিশ্ব বসতি দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ তথ্য জানান। ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।
গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, গ্রামে পৈত্রিক ভিটায় বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করে কৃষিজমি রক্ষা করতে হবে। এ জন্য ২ থেকে ৩ ভাগ সুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। হাউস বিল্ডিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স করেপারেশন বা অন্যান্য ব্যাংক এ ঋণব্যাবস্থা চালু করতে পারে। কৃষিজমি রক্ষায় প্রয়োজনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তপক্ষের কর্মসূচি গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। পৈত্রিক ভিটায় বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংস্থা সহায়তা দেবে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ শহরমুখী জন¯্রােত রোধ করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক প্লট নির্মাণ করে। এসব এলাকায় সকল শ্রেণির মানুষের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে হবে।
বস্তিবাসীর জন্য উন্নত আবাসন গড়ে তুলতে বিশ্বব্যাংক একটি ক্ষদ্র প্রকল্প গ্রহণ করেছে। নি¤œআয়ের মানুষের জন্য তারা আরো বড় প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মিরপুরের বাউনিয়ায় বস্তিবাসীদের বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করছে। খুব অল্প ও সহজে পরিশোধযোগ্য ভাড়ার বিনিময়ে বস্তিবাসীরা এসব ফ্ল্যাটে থাকতে পারবে। এখানে ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এবছরেই ৫৫০টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। এসব ভবনের পরিষেবার ব্যবস্থা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ করবে।
রাজউক, সিডিএ, কেডিএ, আরডিএ আবসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আগে সকল মানুষের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে সবার জন্য আবসন গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজউক উত্তরায় ১৫ হাজার, ঝিলমিলতে ১৪ হাজার এবং পূর্বাচলে প্রায় ৭০ হাজার অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আখতার হোসেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. খন্দকার আখতারুজ্জামান, রাজউকের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান, প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির ও ইউএনডিপি’র কান্ট্রিডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জি  ।
এরআগে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদমিনার থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি দোয়েলচত্ত্বর, সুপ্রিমকোর্ট হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, রাজউকের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার মো. আখতারুজ্জামান, প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. খুরশীদ জাবিন হোসেন তৌফিক, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবু সাদেকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা অংশগ্রহণ করে।
উল্লেখ্য প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ^ বসতি দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৮৫ সালে বিশ্ব বসতি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ১৯৮৬ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছরে দিবসের প্রতিপাদ্য  বাংলারূপ দেওয়া হয়েছে গৃহায়ন নীতিমালা: সাধ্যের আবাস।