বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), গ্রীন ভয়েস, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, পুরাণ ঢাকা নাগরিক উদ্যোগ, আদি ঢাকাবাসী ফোরাম ও পুরাণ ঢাকা মঞ্চ এর যৌথ উদ্যোগে আজ ২৩ অগাস্ট ২০১৭, বুধবার, সকাল ১১.০০ টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নগর ভবন এর সামনে “যত্রতত্র কুরবানীর পশুর হাট বন্ধ, সুনির্দিষ্ট জায়গায় পশুর হাট ও স্থায়ী জবাই কেন্দ্র স্থাপন এবং কুরবানীর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করার দাবীতে” এক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবি ও বাপা’র সহসভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ এর সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়কারী মিহির বিশ্বাস, বাপা’র যুগ্মসম্পাদক আলমগীর কবির, আদি ঢাকাবাসী ফোরামের সদস্য সচিব জাবেদ জাহান, বাপা’র জাতীয় পরিষদ সদস্য নাজিম উদ্দিন, গ্রীন ভয়েস’র আব্দুস সামাদ প্রধান, পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের আশরাফ আমিরউল্ল্যাহ ও মোঃ ইমরান হোসেন প্রমুখ।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, কুরবানীর পশুর বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলার বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছি। ঢাকা মহানগরীতে জনসংখ্যা বাড়ছে, তেমনি কুরবানীও বাড়ছে কিন্তু শহরের আয়তন বাড়েনি। তাই মেয়রদের উচিত সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটা নিয়ন্ত্রণ করা। পুরাণ ঢাকার রাস্তাঘাটে গরুর হাট বসে এতে জনগণের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হয়, রোগীদের হাসপাতালে যেতে সমস্যা হয়। খেলাধুলার মাঠ দখল করেও অনেক জায়গায় গরুর হাট বসে। সরকারি অনুমতি নিয়ে গরুর হাট বসা উচিত। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে গরুর হাট বসানো যাবে না। নিরাপত্তা, পরিবেশ বিবেচনা করে পশুর হাট বসাতে হবে। কুরবানীর পর পরই যত দ্রুত সম্ভব এর বর্জ্য অপসারণ ও রাস্তা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, গত দুই বছর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কুরবানীর জন্য নির্দিষ্টস্থান নির্ধারণ করে দিলেও তা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক ছিলনা, কিন্তু তা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। আবার সরকারের এই সিদ্ধান্তটির বিষয়ে সবাই পূরোপূরি অবহিত বা সচেতন নয়। যার কারণে বিশাল সংখ্যক পশুর চাপে জনপদগুলো ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে, মানুষের বাড়ি-ঘর-আঙ্গিনা-চারপাশ-রাস্তা-মাঠ ছাড়িয়ে ততক্ষণে বিশাল সংখ্যক পশু আমাদের মন-মানসিকতাকেও দখল করে বসে। জবাই কর্মটি চলতে থাকে বাড়ীঘরের আঙ্গিনা থেকে রাস্তার উপর পর্যন্ত। শহরবাসীর ঈদ অনেক ক্ষেত্রে কুরবানীর বর্জ্যের দুর্গন্ধে ম্লান হয়ে যায়। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে এমনকি সৌদি আরবে পর্যন্ত নির্দিষ্ট জায়গায় পশু জবাই করা হয়। আমরা চাই নির্ধারিতস্থানে কুরবানী করতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন জনসচেতনতা সৃষ্টি ও জনগনকে উৎসাহিত করবেন ও তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবেন। পাশাপাশি জনগণকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে মহানগরীর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিতস্থানে কুরবানী করতে নিজ থেকে উদ্যোগী হবেন।

মিহির বিশ্বাস বলেন, প্রতিবছরই আমরা আন্দোলন করি কিন্তু সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হয় না। সিটি কর্পোরেশন এটা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা করে থাকে। কুরবানির পরবর্তী কী করণীয় তা আগে থেকেই পরিকল্পনায় রাখতে হবে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কুরবানীর সময় একটি দক্ষ ও শক্তিশালী টাস্ক ফোর্স সচল রাখা জরুরী ।

অন্যান্য বক্তাগণ বলেন, বাপা সহ অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে সোচ্চার রয়েছেন, পত্রিকা বা ইলেক্ট্রনিক প্রচার মাধ্যমগুলোও যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন থেকে সবসময়ই বলা হয় যে, ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই কুরবানীর বর্জ্য অপসারণ করা হবে, গত দুই বছর কুরবানীর বর্জ্য অপসারণে একটি পরিকল্পিত ও অনেকটাই সাফল্য দেখাতে পেরেছিল, সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ। কিন্তু আরো অধিক দক্ষতা ও দ্রুততা সকলের কাম্য। সিটি কর্পোরেশনের কুরবানী ব্যবস্থাপনার সকল কার্যকর উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং আমরা আশা করি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এবার কোন চাপের মূখে পরাজিত হবেন না, কোন রাস্তায় বা নাগরিকদের বাসা-বাড়ীর সামনে বিচ্ছিন্ন পশুর চলাচল ও বিক্রি অনুমোদন করবেন না বরং বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রমটি আরও বিস্তৃত ও নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন।

সমাবেশ থেকে নিন্মোক্ত দাবীসমূহ উত্থাপন করা হয়ঃ

(০১). যত্র তত্র পশুর হাট বসানো সম্পুর্ণ বন্ধ ও নির্ধারিত স্থানে পশুর হাট নিশ্চিত করতে হবে।
(০২). পশুর হাটের প্রতিদিনের বর্জ্য দিন শেষে নিয়মিত ও সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হবে।
(০৩) এলাকাভিত্তিক নির্ধারিতস্থানে কুরবানীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
(০৪). কুরবানীর পর অবিলম্বে সকল বর্জ্য অপসারণ করতে হবে।
(০৫). সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক, জনবল, যানবাহন সহ সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
(০৬). পাড়ামহল্লা ভিত্তিক নির্দ্দিষ্ট স্থানে কুরবানি ও নিয়মিত পশু জবাই’র স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।