নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মোবাশ্বার হাসানকে (সিজার) খুঁজে বের করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর শিক্ষক, বন্ধু ও স্বজনেরা। তাঁরা বলেছেন, এভাবে একজন মানুষের হারিয়ে যাওয়াটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার। তাই মোবাশ্বারের সন্ধান রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।

 

আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে নিখোঁজ মোবাশ্বারের শিক্ষক, বন্ধু ও স্বজনেরা তাঁর সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন করেন। সেখানে বক্তারা মোবাশ্বারের খোঁজ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

মোবাশ্বার গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রি শেষে দেশে ফিরে অধ্যাপনা ও গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি তিনি নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও তাঁর সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু ও স্বজনেরা।

মানববন্ধনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, ‘শুধু খবরের কাগজে আমরা যা পাচ্ছি তাতে দেখা যায়, প্রতি এক শ ঘণ্টায় একজন করে মানুষ নিখোঁজ হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, দায়িত্বশীল লোকজন এই নিখোঁজের বিষয়গুলো স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা করছে। সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে যেখানে সিজার পড়াশোনা করেছে, সেখান থেকে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে তাকে খুঁজে বের করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। অর্থাৎ ওই দেশের মানুষের ধারণা হয়ে গিয়েছে, এই দেশে মানুষ এভাবে হারিয়ে যায়, যা অনেক লজ্জার।’

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, হত্যার চেয়ে নিখোঁজ হওয়া ভয়ংকর। আর যেন কোনো নাগরিককে এভাবে নিখোঁজ না হতে হয়। তিনি রাষ্ট্রের কাছে শিক্ষক সিজারকে খুঁজে বের করার দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও সিজারের সহপাঠী শবনম আযীম বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে আমরা তাকে ফেরত চাই এবং রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে শিক্ষক সিজারকে খুঁজে বের করার দায়িত্বও রাষ্ট্রের।’

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মোবাশ্বার হাসানের ছোট বোন তামান্না তাসনিম। তিনি ভাইকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান, শিক্ষক নাদির জুনাইদ, আসাদুজ্জামান, শাওন্তী হায়দার, আফরোজা বুলবুলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত মোবাশ্বারের ভাই, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা।