বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র উদ্যোগে আজ ৪ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার, সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি হল কক্ষে “মেয়াদউত্তীর্ণ সকল সিএনজি অটোরিক্সা ও মটর যানবাহন অবিলম্বে নিষিদ্ধ কর!, বন্ধ কর অসমন্বিত, অপরিকল্পিত, অপচয়মূলক ও কষ্টদায়ক রাস্তা কাটার কার্যক্রম” দাবীতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাপা’র সহসভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক বুদ্ধিজীবি সৈয়দ আবুল মকসুদ এর সভাপতিত্বে এতে মুল বক্তব্য রাখেন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাপা’র সহসভাপতি অধ্যাপক এ.এম মুয়াজ্জাম হুসেইন, বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এর অস্ট্রেলিয়া শাখার সমন্বয়ক কামরুল আহসান খান, বাপা’র যুগ্মসম্পাদক আলমগীর কবির। এছাড়াও বাপা’র যুগ্মসম্পাদক হুমায়ন কবির সুমনসহ অন্যান্য আরো নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বায়ুদূষণের প্রভাবে মানুষ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুকিতে রয়েছে। ঢাকাসহ বড় বড় শহরে পরিকল্পনাহীন ভাবে পরিবহন ব্যবস্থা চলছে, যা মোটেই গ্রহনযোগ্য নয়। পরিবহন ব্যবস্থার পূনঃবিন্যাস দাবী করে তিনি বলেন, যারা বায়ুদূষণের জন্য দায়ী তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মুল বক্তব্যে ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, বায়ু দূষণে চরমভাবে বিরক্ত, বিপর্যস্ত, ক্ষতিগ্রস্থ রাজধানী শহর ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয়, জেলা এমনকি উপজেলা অধিবাসী সবাই। শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের কাছে শহরের জীবন আজ চরম কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে। বিগত দুই দশক ধরেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে ফুসফুস তথা শ^াসনালীর অসুস্থতার কারণে। এর জন্য দায়ী অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে ধোঁয়া ও ধূলা জনিত প্রদাহ, তাদের বয়ে আনা অজ¯্র রাসায়নিক পদার্থ ও রোগ জীবাণু। মোটা দাগে এসকলের প্রধান উৎস হচ্ছে বাস-ট্রাক-সিএনজি অটোরিক্সা জাতীয় মটরযান, কলকারখানা, ইটের ভাটা ও তামাকজাত ধূমপান। তিনি বলেন, আমরা জানি পরিবহন ব্যবসায়ীগণ বিগত তিন দশকে সারাদেশ ও রাজধানী শহরে চলমান বাসের গুণগত অনেক পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। কিন্তু সারাদেশ ও রাজধানী আধুনিক ভাল বাসের স্বপ্নটি ধূলিস্যাৎ হয়ে পড়ছে যখন তারা দেখছে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যবসায়ীর কারণে পুরাণো বাস-ট্রাক-অটোরিক্সা কোনমতেই শহর থেকে দূর হচ্ছেনা, কোন না কোন ভাবেই তাদের এই জনপদ ও জনস্বাস্থ্য বিনাশী অর্থ আয়ের নিকৃষ্ট কাজটি তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর সরকার ও প্রশাসন তা দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি পত্রিকান্তরে সিএনজি অটোরিক্সার একটি তথ্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সরকারী সূত্র মতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলমান সিএনজির অনুমোদিত সংখ্যা হচ্ছে মোট ২৬ হাজার। ২০০২ সনে চালু এগুলোর ইকোনমিক লাইফ হচ্ছে ০৯ বছর। বারবার সময় বাড়িয়ে সিএনজি ০৯ বছরের জীবন এখন সরকারী বদান্যতায় ১৫ বছরে উন্নীত হয়েছে যার মেয়াদ ২০১৭ সনেই শেষ হবে। মালিকপক্ষ এসব অটোরিক্সা বাতিল না করে বরং তাদের ইকনোমিক লাইফ আরো ৬ বছর বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন এবং অতি সদাশয় সরকার তাদের প্রতি প্রসন্ন হয়ে তা বিবেচনায় নিয়েছেন বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ জানা গেছে, এটি করা যায় কিনা সরকার তা জানার জন্য আবার বুয়েটের কাছে মতামত প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন। বুয়েট এ নিয়ে কাজ করছে। তবে আমাদের মতে এটি সকল বিচারেই পরিবেশ ও জন-স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হবে। বুয়েট যে প্রতিবেদনই দিক, এর বিনষ্ট যন্ত্রসমূহের যে পরিবর্তনই করা হোক এটি কোনমতেই নতুনের রূপ ও গুণ পরিগ্রহ করবেনা, বরং নিশ্চিতভাবেই এটি কম-বেশী ক্ষতিকারক থেকে যাবে। আমরা অবিলম্বে ১৫ বছর পূর্বে এসব সিএনজি অটোরিক্সার লাইসেন্স বাতিল ও এদেরকে রাস্তা থেকে তুলে নেয়ার দাবী জানাচ্ছি। আমরা জানি এটি ড্রাইভারদেরও দাবী। তিনি আরো বলেন, এরই সাথে যুক্ত হচ্ছে শহরের চারপাশে কয়েক হাজার ইটের ভাটাও তাদের নিকষ কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে যাচ্ছেন অবারিত ও ক্রমবর্ধমান হারে। আরো রয়েছে বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট বিহিন ক্রমবর্ধমান শিল্পকারখানা। সারাদেশের অনেক শহর জনপদে রাস্তা থেকে বাড়ীঘর পর্যন্ত ধূলো-বালি-ধোঁয়া উড়ছে প্রায় অনবরত ও অবারিত। ছোট বড় শহরে ও বিশেষ করে রাজধানীতে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিটি কর্পোরশন, পৌরসভা, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও মেগা প্রকল্পসমূহ মিলিয়ে বিভিন্ন বিভাগের নাগরিক সেবা আজকাল সারা বছরই চলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিবেচনায় ঢাকা সারা বিশে^র সর্বোচ্চ বায়ু দূষণ ও বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবেও ইতোমধ্যে আখ্যায়িত হয়েছে, যা আমাদের জন্য চিন্তার কারণ। জন-দূর্ভোগ নিরসন সরকারী সহায়তা প্রাপ্তি মানুষের অধিকার। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জনদূর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখা ও সেই অনুসারে সুপরিকল্পিত, সুসমন্বিত কাজ ও কষ্ট প্রশমণমূলক চেষ্টা গ্রহন করলেই এ থেকে মানুষ মুক্তি পেতে পারে।
অধ্যাপক এ এম মুয়াজ্জাম হুসেইন বলেন, ঢাকা শহরে অসমন্বিত ও অপরিকল্পিতভাবে প্রায় সারাবছরই রাস্তা খোড়াখুড়ি হচ্ছে, যার কারণে জনভোগান্তি বাড়ছে। জনদূর্ভোগ লাগবে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহনের আহবান জানান তিনি।
কামরুল আহসান খান বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে বায়ু দূষণ রোধ করতে হবে। এজন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানান।