‘ইসলামী সমাজ’ এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ সে দেশের সরকারের নির্দেশে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে, তাদের বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে দেশ থেকে তাদের বেড় করে দিচ্ছে, লুটপাট করছে, নারীদেরকে ধর্ষণ করছে, এসব মানবতা বিরোধী অপরাধ দ্রুত বন্ধ হওয়া জরুরী। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবীয় ট্র্যাজেডি ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ যে ভয়ংকর রুপ নিয়েছে, এর অবসানে জাতিসংঘের মাধ্যমে বিশ্ব নেতাদের জরুরী কার্যকরী হস্তক্ষেপ ও পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন একথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আপনাদেরকে অতি দ্রুত রাখাইনে হত্যাযজ্ঞসহ সকল মানবতা বিরোধী অপরাধ বন্ধ করে স্থায়ীভাবে নাগরিক সকল অধিকারসহ রোহিঙ্গাদেরকে সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সু ব্যবস্থা করার পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানাচ্ছি।
আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং বেলা ২টায়, ইসলামী সমাজের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও দোয়া মাহফিলে- বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে “ইসলামী সমাজ” এর আমীর বলেন, আন্তর্জাতিক মহলে আরো বলিষ্ঠ পদক্ষেপের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরীর লক্ষ্যে এবং আমাদের দেশে শরনার্থী হিসাবে তাদের মৌলিক অধিকারের বিষয়ে সচেতনতার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন এটাই আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা। জাতিসংঘের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারকে গণহত্যা ও সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানালেই তা বন্ধ হবে না, বন্ধ করতে হলে অবরোধসহ কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে, সেই লক্ষ্যে ভূমিকা রাখার জন্য জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। “ইসলামী সমাজ” এর পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের কল্যাণে সহযোগীতা করা হবে, ইনশাআল্লাহ- এ কথার উল্ল্যেখ করে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব এর সামনের রাস্তায় সকাল ১১ টায় “মানব বন্ধন” কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দেন তিনি।
পরিশেষে রোহিঙ্গা মুসলমানসহ সকল মানুষের কল্যাণে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে সমাবেশ অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করা হয়।