কুষ্টিয়া, ২৫আগষ্ট২০১৭ //ঃ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ধর্ম মামার সাথে অবৈধ সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগে গ্রাম্য শালিসের নামে এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় শাররীক নির্যাতন করেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তার অনুগত শালিসী সদস্যরা। নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি নির্যাতিত ওই গৃহবধূকে চিকিৎসা গ্রহণের বাধা সৃষ্টি করে পাঁচদিন বাড়ীতে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে ।
উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামের রিপন আলীর স্ত্রী সালমা খাতুনের সাথে ধর্ম মামা (শাশুড়ীর ধর্ম ভাই সুত্রে ) ছাতিয়ান ইউনিয়নের সাপকামড়া গ্রামের সুবলের অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে রাতের খাবার খাওয়ার সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যের উপস্থিতিতে ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুলের অনুগতরা তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে গভীর রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুলের উপস্থিতিতে শালিসি মাতুব্বরগণ ওই দুইজনকে বেধড়ক মারপিট এবং ধর্ম মামার ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেন। তাৎক্ষণিক টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার ব্যবহৃত মটরসাইকেলটি ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুলের জিম্মায় রাখা হয়। নির্যাতিত ওই গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে শালিসের বিচারকগণ পরবর্তীতে তাকে তার বাড়ীতে আটকে রেখে পল্লী চিকিৎসক দিয়ে গোপনে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিতার প্রতিবেশিরা । এ ব্যাপারে প্রতিবেশি আলিমুদ্দিনের স্ত্রী ষাটর্দ্ধো সুফিয়া খাতুন জানান, স্থানীয় কয়েকজন যখন তাদেরকে ধরে নিয়ে যায়, তখন আমি এ বাড়ীতে উপস্থিত ছিলাম। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বকুল ওই সকল ঘটনার সাথে নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন ।
মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি নিজে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।