মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর হত্যা-নিধন যজ্ঞ বন্ধে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের উপর চাপ প্রয়োগের দাবি-ক্যাব চট্টগ্রাম
 
 
মায়ানমারের সরকার বিশেষ করে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মায়নমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী অংসাং সুচি ক্ষমতায় আসার পর মায়ানমার সরকারে সামারিক বাহিনী কর্তৃক রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা নাগরিকদের উপর ব্যাপক হারে হত্যা যজ্ঞের কারনে বিগত এক সপ্তাহে দুই শতাধিক নারী ও শিশুতে হত্যা করা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। নির্বিচারে এভাবে নারী ও শিশু হত্যা যজ্ঞ পরিচালনা করে মায়ানমার সরকার রাখাইন প্রদেশে রক্তের লেলিহান শিখা প্রজ্জলন করে নিরপরাধ নারী ও শিশুকে হত্যার যে খেলা শুরু করেছে সেখানে হত্যা যজ্ঞ বন্ধ, মায়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগে আর্ন্তজাতিক মহলের শিথিলতার কারনে বারবার এ ধরনের অমানবিক হত্যা যজ্ঞ ঘটছে। যা মানবতার উপর প্রচন্ড আঘাত ও নিষ্ঠুর বর্বরতা ছাড়া কিছুই নয়। রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের উপর অমানবিক হত্যা যজ্ঞ পরিচালনায় নেতৃত্ব প্রদানে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মায়ানমারের নেত্রী অং সাং সুচির নোবেল পুরাস্কার  প্রত্যাহার করা উচিত, এ হত্যা যজ্ঞে নিরবতা পালনের জন্য আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের উপর নিন্দা জ্ঞাপন, মায়ানমারের উপর বানিজ্য ও আর্ন্তজাতিক সাহায্য প্রদানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং রোহিঙ্গাদের উপর এই নিষ্ঠুর বর্বরতা থামাতে আর্ন্তজাকি সম্প্রায়ের উপর চাপ প্রয়োগে জোর কুটনৈতিক প্রচেষ্ঠা চালানোর জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থসংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি। 
 
মায়ানমারের নিরহ রোহিঙ্গাদের উপর অমানবিক বর্বোচিত হত্যা কান্ডে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন মায়ানমারের অধিকাংশ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হলেও মহান গৌতম বৌদ্ধের অহিংস বানী তারা অনুসরণ না করে নারী- পুরুষ ও শিশুদেরকে নির্বিচারে হত্যা করছে। আর এ হত্যা যজ্ঞে পুরোপুরি সেনাবাহিনীর হুকমের দাসের পরিনত হয়েছে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সুচি। এছাড়াও পুরো বিশ্বের নোবেল বিজয়ীরাও এ বিষয়ে কোন উদ্বেগ বা প্রতিবাদ জানান নি। যা খুবই দুঃখ ও লজ্জাজনক। মায়ানমারের এ জঘন্য হত্যা যজ্ঞে নিরব থাকা কোন বিবেক বান মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই অতিদ্রæত আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর চাপ প্রয়োগ করা উচিত।
 
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিবাদ দমনের নামে ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনী ইরাক, আফগানিস্থান, সিরিয়াতে ক্ষমতা প্রয়োগ করলেও মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা নিধনে তাদের নিরবতা সত্যিই নিন্দনীয় নয়, অমানবিক ও ববর্রতাকেও হার মানায়। যুক্তরাস্ট্র, বৃটেন, চীন, ভারতসহ বৃহৎ শক্তিগুলির এ নিরবতা বিশ্বে শান্তির পক্ষে সুবাতাসের পরিবর্তে অশান্তি ও নিষ্ঠুরতাকে উস্কে দিবে। যা বিশ্ব শান্তির প্েক্ষ হুমকি স্বরূপ। তাই বৃহৎ শক্তিগুলির এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মতপ্রকাশ করা হয়। 
 
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন বাংলাদেশে প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে বিশ্ব শান্তির পক্ষে অন্যতম নেতা। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃতেত্বর কারনে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভয়াবহ রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। ঠিক একই ভাবে মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের এ হত্যা যজ্ঞ বন্ধে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এশিয়ার অন্যতম শান্তির প্রবক্তা হিসাবে শেখ হাসিনার জরুরী উদ্যোগ নেবার দাবি করা হয। একই সাথে মায়ানমারে আর্ন্তজাতিক মহলের বানিজ্য ও আর্ন্তজাতিক সহায়তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার দাবিও জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ মায়ানমারের যাবতীয় পণ্য বর্জনেরও আহবান জানান। 
 
বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, সহ-সভাপতি এমনাসিরুল হক, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক এএম তৌহিদুল ইসলাম, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আলী মির্জা প্রমুখ।