ইসলামী এক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, মহানবীকে(সা.)বেষ্টন করে তৌহিদী জনতার মনন বিশেষ তাৎপর্য চেতনায় সমৃদ্ধ হয়। দেড় হাজার বছর আগে মহানবী(সা.)-এর মাধ্যমে ইসলাম নামক নতুন দিগন্তের, নতুন আলোক রেখার সন্ধান পেয়ে নব উৎসাহে, নব উদ্দীপনায় অনুপ্রাণিত হয়ে উঠে মানব সমাজ। তারা নেমে পড়েন দুর্ধর্ষ সংগ্রামে দুর্জয় বিশ^াস নিয়ে। এরূপ কর্মোদ্মাদনা সত্যিই বিস্ময়কর। অনৈক্য, দ্বিধা, দ্বন্ধ ও সংশয়াগ্রস্থ যখন মানুষ । তখন মহানবী(সা.) মহত্তম, কঠিনতম ও শেষতম কর্মের আহ্বান পেলেন মহান আল্ল্হর পক্ষ থেকে। অপূর্ব আত্মবিশ^াস, অদম্য উৎসাহ, দুর্জয় সাহস এবং অসাধারণ প্রজ্ঞার সাহায্যে তিনি মাত্র তেইশ বছরের মধ্যে একটি উচ্ছৃংখল জনতাকে একটি সংঘবব্ধ শক্তিতে পরিণত করেন। যেন কোনো যাদুমন্ত্রের আকর্ষণে বিচ্ছিন্ন, আত্মবিশ^াসহীন, দুঃসহ ও বিঘœসংকুল একটা গোষ্ঠী ঐক্যে সমবেত হয়ে তাঁর ডাকে দাড়িয়ে গেলো। আল্লাহর মেহেরবানী মূর্তহয়ে মহানবীর(সা.)-এর আকারে আত্মপ্রকাশ করেছিল বলে’ই এই অসম্ভব সম্ভম হয়েছিল। অনেকে সন্দিগ্ধচিত্ত ছিলেন। কিন্তু সেদিন একদল জনতার মনে হয়েছিল, তাদের দীর্ঘদিনের মনের নিষ্ক্রিয়তা ও নিরুৎসাহিকতা দূর হতে চলেছে। সেদিন তারা এগিয়ে চলেছিল দুর্বার গতিতে; কোন বাধা, কোন প্রতিবন্ধক দেখে তারা ভীত হয়নি। আর গতিপথে তৌহিদ জনতা পেয়েছিল মহানবী(সা.)-এর মতো সুদৃঢ়, স্থির, অচঞ্চল, দূরদর্শী অনির্বাণ দীপশিখার ন্যায় সদাজাগ্রত, সদাসচেতন একজন নেতা। তিনি ইসলামী ঐক্যের নেশা এমনভাবে জাগিয়ে দিতে পেরেছিলেন যে, দুশমনদের সকল চক্রান্ত সকল বাধা-বিঘœ ব্যর্থ করে দিয়েই তৌহিদী জনতার কাফেলাকে। তাঁর এই সাফল্যে সেদিন দুনিয়া বিস্ময়ে হতবাক হয়েছিল।
তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ মাওলানা আতহার আলী মিরনায়তনে নবী দিবস উফলক্ষ্যে নেজামে দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন। সহসভাপতি অধ্যাপক এহতেশাম আরোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন ও মাওলানা জিয়াউল হক মজুমদার, সহকারী মহাসচিব রবিউল ইসলাম মজুমদার রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মোঃ আহসান, অর্থ সম্পাদক মুফতি আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা মনসুরুল হক, মাওলানা ফজলুল করিম এবং ইসলামী ছাত্র সমাজের মহাসচিব মোঃ নুরুজ্জামানূ, ঢাকা মহানগর সভাপতি মাহমুদ হাসান ও সাধারাণ সম্পাদক তারেক জামিল প্রমূখ।
মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী আরো বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব জনতার চিন্তা-চেতনায় গভীর ও ব্যাপক অধিকার বিস্তার করে আছেন। এতে তাঁর স্বরূপ প্রতিভাত হয় বর্ণাঢ্য রূপে, সহজ এবং আন্তরিক মর্মর্স্প্শীতায়। তাঁর নেতৃত্বে সেদিন চৈতন্যের সাড়া অনুভূত হয়। সূচিত হয় তৌহিদের পতাকাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে শাহাদাতের নবতর অধ্যায় । এই জাগরণের মাধ্যমে তৌহিদের মর্যদা রক্ষার জন্যে আপসহীন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়, যা মুসলিম মননকে প্রেরণা যোগাচ্ছে।
তিনি বলেন, তৌহিদী জনতার জীবনে বহু সংকট আসে। কিন্তু তারা যদি মহানবীর আদর্শ প্রবহমান রাখে, তা হলে সাময়িক বিপর্যয় ঘটলেও তারা আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। তার অনেক নজির আছে। মহানবীর(সা.) সৃষ্ট ইসলামী আন্দোলনের ফলে যে তরঙ্গ উঠেছিল, তা এখনো অব্যাহত আছে । তাঁর আদর্শ তৌহিদী জনতার চিত্তকে এক গরীয়ান আসন দেয়। ন্যায়, সত্য ও সততা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করে । তাঁর আদর্শ আমাদের কাছে এক শিক্ষার বাণী বহন করে ফেরে। তৌহিদী জনতার চিত্তের ওপর মহানবীল(সা.) প্রভাব যে অত্যন্ত বেশি তাতে সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, মহানবী(সা.) ইসলামী আদর্শের যে প্রদীপ জে¦লে গেছেন, তাঁর পথ ধরে তৌহিদী জনতা চলতে পারে কেয়ামত পর্যন্ত। তিনি যে অঙ্গুলী সঙ্কেতে দেখিয়ে দিলেন ঐক্য পাহাড় টলাতে পারে। তাঁর সূচিত আদর্শ ব্যক্তিত্বকে চালিত করবে ঐক্যের পথে; অন্তরে শক্তি সঞ্চার করবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রচেস্টায়। তাঁর অনুসৃত ঐক্যের পথ অব্যাহত রাখতে পারলে নিজস্ব তাহযিব-তমদ্দুন এবং ঈমান-আক্বিদা বজায় রেখে ইসলামী জীবনধারার পথে অগ্রসর হওযার সুযোগ পাওয়া যাবে। মহানবীকে (সা.) তৌহিদী জনতা চিরদিনই বিস্ময় ও শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে স্মরণ করবে।