বিশেষজ্ঞরা ক্লিনিক্যালি ডেড লোকদের অঙ্গদানে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের উদ্বুদ্ধ করতে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) আছে এমন প্রত্যেকটি হাসপাতালকে একজন অঙ্গ প্রতিস্থাপন সমন্বয়ক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
সোসাইটি অব অর্গ্যান ট্রান্সপ্লান্ট, বাংলাদেশ এর সভাপতি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ বলেন, ‘ক্লিনিক্যালি ডেড রোগীদের আত্মীয়-স্বজনকে অঙ্গদান এবং অন্য ব্যক্তির প্রাণ বাঁচানো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে আইসিইউ আছে এমন সকল হাসপাতালে একজন অর্গ্যান ট্রান্সপ্লান্ট সমন্বয়ক থাকা প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রফেসর রশিদ বলেন, উন্নত দেশগুলোতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ লোক মরণোত্তর দান করা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন জীবন লাভ করেন। অথচ বাংলাদেশে তা শুরুই হয়নি। আর এজন্য একজন সমন্বয়কের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমন্বয়ক প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকবেন না। তিনি সমাজ সেবা ক্ষেত্রের লোক হবেন এবং রোগীদের আত্মীয়-স্বজনকে মরণোত্তর অঙ্গদান সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দেয়ার মাধ্যমে তাদের ক্লিনিক্যালি ডেড রোগীর অঙ্গদানে রাজি করাতে সক্ষম হবেন।
মরণোত্তর অঙ্গদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সন্ধানী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. গোলাম শাহরিয়ার বলেন, যতো বেশি অঙ্গদানকারী পাওয়া যাবে তত সমাজে বেশি সচেতনতা তৈরি হবে। আর মরণোত্তর অঙ্গদানে উদ্বুদ্ধ করতে একজন সমন্বয়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএসএমএমইউ) ভিসি প্রফেসর ড. কামরুল হাসান বলেন, প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিরাট ব্যবধান রয়েছে। চাহিদা দ্রুত বেড়েই চলছে। এই ব্যবধান কমাতে সমন্বয়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে অনেকের আশংকা আবেগ, সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিতর্ক বাংলাদেশে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে আশার বিষয় হলো ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) ইসলামের মানবতার মূল্যবোধের ভিত্তিতে অঙ্গদান অনুমোদন করেছে।
মাওলানা আবদুল্লাহ আল-মারুফ ওআইসি’র ইসলামিক কাউন্সিলের বরাত দিয়ে বলেন, মানবতার কল্যাণের জন্য কেউ তার মৃত্যুর আগে বা পরে অঙ্গদান করতে পারে। তবে ইসলামের নীতিমালা অনুযায়ী কেউ তার অঙ্গ দান করতে পারলেও বিক্রি করতে পারেন না। কেননা ইসলাম বলেছে, মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অতীব মূল্যবান জিনিস, তাই এগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে বিনিময়যোগ্য পরিণত করা যায় না। মানুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি অঙ্গ মরণোত্তার দান করার মাধ্যমে অন্যদের জীবন বাঁচানোর সুযোগ করে দেয়া যায়। মরণোত্তর চোখ, কিডনি, যকৃৎ ও হৃৎপিণ্ড দান করে একজন মানুষ অপর পাঁচ জনের প্রাণ বাঁচাতে পারেন বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।