স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তি নির্ভর মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আজ ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে “সবার জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট”শ্লোগানে তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের আয়োজনে “জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস -২০১৭” উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘তরুণরাই এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। তরুণদের মেধা,দক্ষতা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আমরা গড়ে তুলতে পারি ডিজিটাল বাংলাদেশ।’
এ সময় তিনি প্রথমবারের মতো উদযাপিত “জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস -২০১৭” এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূদুর প্রসারী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ভিশন-২০২১ এর আওতায় “ডিজিটাল বাংলাদেশ’’ গঠনের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের জনগণ তথ্য প্রযুক্তির মহাসড়কে অবস্থান করছে। তথ্য প্রযুক্তি আমাদের জীবনে আজ গভীরভাবে প্রভাব রাখছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগোযাগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল গভর্নমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, কানেক্টিভটি ও ইন্ডাষ্ট্রি প্রমোশন-এ চারটি পিলারের ওপর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এর সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে।
স্পিকার বলেন, দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। এ পরিবর্তন আমাদের যুক্ত করছে নতুন পৃথিবীর সাথে। ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫শ’টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার,২ হাজার ১টি বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব,৭টি শেখ কামাল আইসিটি ট্রেনিং সেন্টার,২৮টি হাইটেক পার্ক স্থাপন করেছে সরকার।
তিনি বলেন, আইসিটি বিভাগের মাধ্যমে তিন বছরে ৩ লক্ষ তরুণকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে এবং হাইটেক পার্কসমূহে ২০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।এছাড়া ২২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আইডিয়া প্রকল্প।
শিরীন শারমিন বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত হবে ভবিষ্যতের চালিকা শক্তি। এ খাতে দেশের বর্তমান আয় ৮শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ,২০১৮ সালে তা বেড়ে হবে ১ বিলিয়নে এবং ২০২১ সালে সেটি ৫ বিলিয়নে উন্নীত হবে। এর মাধ্যমেই পূরণ হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন,অর্জিত হবে অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি।
স্পিকার বলেন, এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার পিছনে তাকানোর সময় নেই,থেমে থাকারও সুযোগ নেই। সকলকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে পরিচিতি পেতে ডিজিটাল বাংলাদেশের ছায়াতলে সামিল হই।
অনুষ্ঠানে দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতের প্রসারে বিশেষ অবদান রাখায় ১২ টি ক্যাটাগরিতে ১৫ জনকে “ন্যাশনাল আইসিটি এ্যাওয়ার্ড-২০১৭” প্রদান করেন স্পিকার। এর মধ্যে শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ জাফর ইকবাল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ফরিদউদ্দিন,বাসস’র উপ-প্রধান প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান রাজু , বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কমের তৌফিক ইমরোজ খালিদি,ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া, ও সিটি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য। মরনোত্তর পুরস্কার দেওয়া হয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সফল মেয়র আনিসুল হককে। আনিসুল হকের পক্ষে তার কন্যাদ্বয় পুরস্কার গ্রহণ করেন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।