বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ডবিøউবিবি ট্রাষ্ট, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ-স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, গ্রীনভয়েস-সহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে আজ ১৬ই ফেব্রæয়ারি ২০১৮, শুক্রবার, সকাল ১০.৩০ টায় শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের সামনে “মধুবাগ খেলার মাঠে মেলার আয়োজন বন্ধ করা এবং ঢাকা মহানগরীর সকল মাঠ দখলমুক্ত ও জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করার দাবীতে’’ এক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন এর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস ও আলমগীর কবির, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, ডবিøউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হোসেন, গ্রীন ভয়েস এর আব্দুস সামাদ প্রধান ও আব্দুস সাত্তার, গোলাপবাগ মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত জোবায়ের প্রমূখ।

সুচনা বক্তব্যে আলমগীর কবির বলেন, এই মুহুর্তে চলছে মগবাজারের মধুবাগ মাঠটি দখল করে মেলার আয়োজন। সেখানে বিভিন্ন ধরণের দোকান, ম্যাজিক নৌকা, চরকিসহ খাবারের দোকান নির্মাণ চলছে। গত কয়েকদিনে স্টল তৈরীর জন্য মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযুক্ত করে ফেলা হয়েছে। তছনছ হয়ে যাচ্ছে এই এলাকার জনপ্রিয় বৃহৎ এই খেলার মাঠ। নিয়মিত খেলাধুলা, হাটাহাটি, শরীর চর্চার জন্য সকল পর্যায়ের শিশু-কিশোর-যুবা-বয়স্ক সহ এলাকার জনসাধারণ ব্যবহার করতো। সেই মাঠটিতে হঠাৎ করে এধরণের মেলা আয়োজনের কারণে তাদের খেলা-ধুলা, বেড়ানো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এলাকার শিশু-কিশোরসহ এলাকাবাসী মাঠটির এই অবস্থা দেখে খুবই হতাশ। আমরা জানতে পারি যে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৩ নং অঞ্চলের অধীনে মধুবাগ খেলার মাঠটি মাসব্যাপী তাঁত ও বস্ত্রমেলার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের স্থানীয় ৩৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর অনুমোদনে এটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মধুবাগ মাঠে মেলার আয়োজন আইনের পরিপন্থী। তিনি বলেন, কিছু ব্যবসায়ী ও প্রতাপশালী ব্যক্তির আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এহেন সবুজ মাঠ ধ্বংসাতœক কাজের অনুমতি দিয়েছেন পৌর কাউন্সসিলর। কতটা দূর্বিনীত হলে সরকারী আইন ভেঙ্গে এধরণের একটি জনপ্রিয় মূল্যবান মাঠকে কতিপয় ব্যক্তির জন্য অপব্যবহার করা যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়ের ব্যত্যয় ঘটিয়ে আজ ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশের খেলার মাঠ-উন্মুক্তস্থান গুলোকে বিভিন্ন মহল ধবংস করার ধারাবাহিক অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদের এই কুচক্রি আচরণের প্রতি আমরা আন্তরিক ঘৃণা প্রকাশ করছি নিন্দা জানাচ্ছি।
সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, খেলার মাঠ, উন্মুক্তস্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণে ২০০০ সালে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সদিচ্ছায় তার সরকার একটি শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করে। এই আইন অনুযায়ী মাঠে খেলাধুলা ব্যতিত অন্যকোন কার্যক্রমে মাঠকে ব্যবহার করা যাবে না। অথচ আমরা লক্ষ্য করছি, তাদের দলীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগন আজ আইনটি উপেক্ষা ও ভঙ্গ করছে। জনগনের আকাংখা ও অধিকার রক্ষায় এবং আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মধুবাগমাঠ সহ ঢাকা মহানগরীর সকল খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত রাখা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
মিহির বিশ্বাস বলেন, মাঠ দখল করে মেলা আয়োজন সাধারণ জনগন আশা করে না। ঢাকা শহরে ছোট-বড় ও সমাজের সকলস্তরের জনগনের জন্য পর্যাপ্ত দোকান, শপিংমল ও মার্কেট রয়েছে। তাই খেলাধুলার পরিবেশে বিঘœ ঘটিয়ে মাঠ বিনষ্ট করে কোন মেলা আমরা চাই না।
ড. আহমেদ কামরুজ্জামান বলেন, খেলার মাঠে খেলার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত রাখার আইনগত সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথা ভুলে গিয়ে আজ শিশু-কিশোরসহ খেলাধুলা, তরুণদের সুস্বাস্থ্য বিনির্মান, অসুস্থ ও বয়স্ক নাগরিকদের হাঁটার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সামাজিক পরিবেশ সমুন্নত রাখা এবং এলাকার সুষ্ঠু পরিবেশ সংরক্ষণ ও একটি সুস্বাস্থ্যবান মেধাবী ভবিষ্যত প্রজন্ম গঠনের স্বার্থে মগবাজার মধুবাগ মাঠের চলমান মেলার আয়োজন অবিলম্বে বন্ধ করে, মাঠটিকে খেলাধুলার উপযোগী করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তিনি দাবী জানান।
অন্যান্য বক্তাগন বলেন, যেখানে প্রথা ও পদ্ধতি হচ্ছে যে, রাষ্ট্র বা সরকার তার আনাচে কানাচের স্থানসমূহ থেকে খেলোয়াড় তৈরীর জন্য সুযোগ করে দিবে, অথচ তা না করে ঢাকা পৌর কর্পোরেশন ঐ খেলারমাঠ বা ফাঁকা স্থানসমূহকে বিনষ্ট করে সীমিত সংখ্যক ব্যবসায়ীদের অর্থ কামানোর রাস্তা নিশ্চিত করছে। এভাবে চলতে থাকলে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় তৈরী ভবিষ্যতে আরো কঠিন হবে। তাই ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে যে সকল খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানসমূহ রয়েছে সেগুলো রক্ষা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমাবেশ থেকে ৫-টি দাবী উত্থাপন করা হয়ঃ (১) মধুবাগ মাঠের মেলার আয়োজন অবিলম্বে বন্ধ করে, খেলাধুলার উপযোগী করে তা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে; (২) ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশের সকল খেলার মাঠ-উন্মুক্তস্থান ও পার্কসমূহ পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষন নিশ্চিত করে জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করতে হবে; (৩) প্রতিটি খেলার মাঠ ও পার্ক ব্যবহারের নির্দেশনা ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড নির্দিষ্ট মাঠ বা পার্কের প্রবেশ পথে স্থাপন করতে হবে; (৪) সারাদেশের সকল খেলার মাঠ ও পার্ক চিহ্নিত করে তা রক্ষার জন্য স্থানীয় নাগরিক কমিটি গঠন করতে হবে; ও (৫) নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট নক্শায় বসতি অনুযায়ী খেলার মাঠ ও পার্ক নিশ্চিত রাখতে হবে।