২৩.০৮.২০১৭। বুধবার সকাল ১১টা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে কণ্ঠশীলনের নতুন নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে নাটক “যাদুর লাটিম” প্রযোজনা বিষয়টি উপস্থাপন করেন কণ্ঠশীলন সভাপতি গোলাম সারোয়ার। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্দেশক ও কণ্ঠশীলন অধ্যক্ষ মীর বরকত; নাটকটির নাট্যরূপ প্রদানকারী রাফিক হারিরি; কণ্ঠশীলন সাধারণ সম্পাদক রইস উল ইসলামসহ কণ্ঠশীলন সদস্যবৃন্দ।
কণ্ঠশীলন প্রযোজিত নতুন মঞ্চনাটক ‘যাদুর লাটিম’-এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন আগামী ১০ই ভাদ্র ১৪২৪/ ২৫শে আগস্ট ২০১৭, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা, ঢাকায়। পরের দিন ২৬শে আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় একই মিলনায়তনে নাটকটির দ্বিতীয় মঞ্চায়ন হবে। নোবেল বিজয়ী মিশরীয় ঔপন্যাসিক নাগিব মাহফুজের “অ্যারাবিয়ান নাইট্স অ্যান্ড ডে’জ” অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন রাফিক হারিরি। নির্দেশনায় আছেন কণ্ঠশীলন অধ্যক্ষ মীর বরকত। নতুন নাটক যাদুর লাটিমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান; বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সেক্রেটারি জেনারেল আকতারুজ্জামান।
নাটক সম্পর্কে নির্দেশক মীর বরকত বলেনÑ মধ্যপ্রাচ্যের ক্লাসিক ‘অ্যারাবিয়ান নাইট্স’ এর আঙ্গিকে ঔপন্যাসিক নাগিব মাহফুজ রচনা করেন “অ্যারাবিয়ান নাইট্স অ্যান্ড ডে’জ”। তরুণ লেখক রাফিক হারিরি এই উপন্যাসের কিছু অংশ নিয়ে নাট্যরূপ দিয়েছেন ‘যাদুর লাটিম’ নাটকের। মধ্যপ্রাচ্যের পটভূমিতে লেখা হলেও নাট্যকার বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপট, ব্যক্তিগত দ্বিধাদ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলেছেন নাটকে। অদ্ভুতুরে কাহিনির সাথে বর্তমান বিশ্বের প্রবহমান ঘটনাবলীর সাযুজ্য ফুটিয়ে তুলতে ফ্যান্টাসী ও রিয়েলিস্টিকের মিশ্রণে ঢেলে সাজানো হয়েছে নাটকটি। এক ঝাঁক তরুণ নাট্যকর্মীর প্রয়াসটি সার্থক করতে সকল কলাকুশলী অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।
‘যাদুর লাটিম’ এক কল্পিত শহরের ইফরিদ-কুফরিদ নামের দুষ্ট জ্বিনের গল্প হলেও বাস্তবতার বাইরে কিছু নয়। মানুষের শিরায় উপশিরায় ঘুরে বেড়ানো ইফরিদ আর কুফরিদ মানুষের মনে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের বিষ ঢুকিয়ে এবং ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নগর জুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে থাকে। সেই চক্রান্তের বলি হয় ব্যবসায়ী সানান, কোটিপতি কারাম, হামদানি, সালিম, তরুণী। কুফরিদের চক্রান্তে গভর্নর খুন হবার পর ইফরিদ কালো যাদু থেকে মুক্ত হয়ে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
প্রায় দেড় ঘন্টার নাটকটির মঞ্চসজ্জা, পোশাক ও আলোক পরিকল্পনায় আছেন ফয়েজ জহির, সঙ্গীত পরিকল্পনা ও সুর সংযোজন করেছেন শিশির রহমান, কোরিওগ্রাফি করেছেন আমিনুল আশরাফ। গান লিখেছেন রাফিক হারিরি ও মীর বরকত।
বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেছেন রইস উল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, একেএম শহীদুল্লাহ কায়সার, সোহেল রানা, সালাম খোকন, অনন্যা গোস্বামী, জেএম মারুফ সিদ্দিকী, নিবিড় রহমান, নাশাত আনান চৌধুরী বিন্তু, আফরিন খান, অনুপমা আলম, নিলুফা মিম, রাহনুমা ইসলাম রাখী, মো. আব্দুল কাইয়ুম, রুবেল মজুমদার, মো. ওয়ালিউল ইসলাম সাকিব, নিশরাত জেবিন নিশি, শেখ সাজ্জাদুর রহমান ও ফাহিম আবরার।
আবৃত্তির সংগঠন হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনভুক্ত কণ্ঠশীলন ১৯৯৩ সাল থেকে নিয়মিত মঞ্চনাটক প্রযোজনা করছে। কণ্ঠশীলন প্রযোজিত প্রথম তিনটি নাটকের নির্দেশনা দেন প্রয়াত সুখ্যাত অভিনেতা খালেদ খান (যুবরাজ)। নাটকগুলো ছিলো হেনরিক যোহান ইবসেনের এ ডলসহাউজ অবলম্বনে শম্ভু মিত্র রূপান্তরিত ‘পুতুলখেলা’, মাস্টার বিল্ডার অবলম্বনে ‘কারিগর’; ইউসুফ ইদরিসের দ্যা ফারফুরস অবলম্বনে ‘ভৃত্য রাজকতন্ত্র’। সৈয়দ শামসুল হকের ‘উত্তরবংশ’ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন গোলাম সারোয়ার। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘রাজা-রানী’ এবং মনোজ মিত্রের ‘যা নেই ভারতে’ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন মীর বরকত।