ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলা, স্টার জলসা, স্টার প্লাস সহ ভারতীয় অন্যান্য চ্যানেল  বন্ধের দাবি জানিয়েছে জনস্বার্থ রক্ষা জাতীয় কমিটি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শুক্রবার আয়োজিত গণশুনানিতে বলা হয়, ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ সংক্রান্ত একটি আপিলের বিষয়ে আগামী রবিবার সুপ্রিমকোর্টে  রায় দেয়ার কথা রয়েছে।  আমরা আগ্রহ নিয়েই সুপ্রিমকোর্টের ওই রায়ের দিকে তাকিয়ে আছি। আশা করি, এই বিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট যে রায় দেবেন, সেখানে আমাদের দাবির প্রতিফলন ঘটবে। রাজধানীর মিরপুরে-১১ সেকশনের সবুজ বাংলা আবাসিক এলাকার ফটকের সামনে গনশুনানি হয়।  এতে বক্তব্য রাখেন  সংগঠনের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বুলু। উপস্থিত ছিলেন-  শরীয়তপুর ফাউন্ডেশনের মহাসচিব বাচ্চু বেপারী, জনস্বার্থ রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, ইব্রাহীম হাসান মিঠু, মোঃ আফজাল হোসেন, মোঃ কামাল খান, মাহবুব হাসান, আব্দুল জব্বার দেওয়ান, মোঃ রফিকুল ইসলাম, আব্দুল মজিত, আব্দুর রহিম, আনোয়ার হোসেন রকি প্রমুখ।

=
গনশুনানিতে সংগঠনের আহবায়ক আমিনুল ইসলাম বুলু বলেন, সংসারের কর্ত্রী সিরিয়াল দ্বারা এতই প্রভাবিত হয়ে থাকেন যে, সব কাজ পড়ে থাকুক কিন্তু সিরিয়াল দেখা মিস করা যাবে না। এতটাই নেশাগ্রস্ত থাকেন যে, স্বামীর সঙ্গে কলহ করতে তাদের যুক্তির অভাব হয় না। সন্তানদের লেখাপড়ার খোঁজ রাখার মতো বিষয়ে উদাসীন হয়ে থাকে। শিক্ষিত মা সন্তানদের লেখাপড়ায় কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। গৃহশিক্ষকের ওপর সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব দিয়ে তারা নিশ্চিত। শিশুরা মায়ের স্নেহ মমতার বদলে শাসন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। মেয়েরা পড়ালেখা ভুলে অনৈতিক শিক্ষা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নানা রকম অবাধ্যতা দেখায়, যা পরিবারের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে যায়। সিরিয়ালে পুরুষ নারীর বাধ্য থাকে। ফলে নারীর ক্ষমতা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে এ দেশের বিবাহিত নারীরা উপলব্ধিতে আনতে পারেন না। তাদের অনেকেই পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। ভারতীয় সিরিয়ালের কারণে বাংলাদেশে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে।  গণশুনানিতে আরও বলা হয়, সিরিয়ালের কারণে পরিবারের রান্না-বান্না, শিশুদের স্কুলে নেয়া ইত্যাদি বাড়ির কাজের মেয়ের ওপর ন্যস্ত থাকে।  এতেও শিশুদের মানসিক বিকাশ ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। শিশুরা বুয়ার আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, যা খুবই স্পর্শকাতর। সিরিয়াল কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। যৌনজীবন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তাদের মনে আসন করে নেয়। অনেকেই পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় অবাধ্য আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

গণশুনানিতে  বক্তারা বলেন, ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দেশী টিভি চ্যানেলগুলো বিদেশী সিরিয়াল বাংলায় ডাবিং করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। ফলে দেশীয় সংস্কৃতি দুর্দিনেপড়েছে। জনস্বার্থ রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বুলু বলেন, বিগত কয়েক দিন পূর্বে ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের আমন্ত্রণে এফবিসিসিআই এর পক্ষ থেকে বিআইএমএসটিইসি এক্সপো মেলা ২০১৭ তে যোগদান করি।  কিন্তু খুবই দুঃখ এবং পরিতাপের সাথে খেয়াল করি যে, ভারতীয় ডিস লাইনে ৫০২ টি চ্যানেল দেখা যায়, কিন্তু তার মধ্যে আমাদের বাংলাদেশের একটি চ্যানেলও দেখতে পাইনি।  আমরা দর্শকরা কেন ভারতীয় চ্যানেল নিয়ে এত মাতামাতি করি।  আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও কৃষ্টি রয়েছে। আছে মজবুত সামাজিক মূল্যবোধ। পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতির সর্বজনীন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আমরা বসবাস করে আসছি।  সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের জীবনযাপনে নানা পরিবর্তন এসেছে। এখন আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, কৃষ্টি মূল্যবোধ গুরুত্ব হারাতে বসেছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে। আমরা অনেক দিন ধরে আকাশ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কোনো কথা বলছি না। মনে হতে পারে আকাশ সংস্কৃতি আমাদের জীবনধারণের সঙ্গে মানিয়ে গেছে। হ্যাঁ, বর্তমান স্যাটেলাইটের যুগে তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিশ্বের খবর জানা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে আকাশ সংস্কৃতির ব্যাপক কু-প্রভাব। বুলু বলেন, পারিবারিক ভালোবাসার সাবলীল জায়গাগুলো ধীরে ধীরে অনেকখানি ক্ষয়ে গেছে। এখনই সময় এই কু-প্রভাব থেকে নিজস্ব সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা করা।