প্রাচীন ইতিহাস অনুসারে ভারত উপমহাদেশেই মার্শাল আর্টের আদি পীঠস্থান। কালক্রমে, ভারতীয় উপমহাদেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ‘আতœরক্ষা কৌশল’ চর্চা ব্যাপক প্রসার ও পূর্ণতা পায় চীনের হুনান প্রদেশে শাওলিন টেম্পল এবং পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও ভারতীয় উপমহাদেশ তার মার্শাল আর্টের ঐতিহ্য ক্রমশঃ হারিয়ে ফেলে। প্রায় দীর্ঘ আড়াই হাজার বছর পর গ্রান্ডমাস্টার ড. ইউরী তার নিরলস প্রচেষ্টা ও একনিষ্ট গবেষনার মাধ্যমে প্রাচীন ভারতীয় আতœরক্ষামূলক পদ্ধতির হারানো গৌরব ও সোনালী ঐতিহ্য, ‘ব্যুত্থান’ পতাকাতলে পুনরুদ্ধারে ব্রতী হন। পদ্ধতিগত মার্শাল আর্টের জনক ক্ষত্রিয় বংশের বোধীধর্মা, জন্মের পর তার শৈশব কাটিয়েছেন দক্ষিণ ভারতের কাঞ্চিপুরামে এবং তিনি খালি হাতে আত্মরক্ষার পাশাপাশি উচ্চমানের মনো-দৈহিক ও অধ্যাত্মিক চর্চায় নৈপুণ্য অর্জন করেন এবং তার শিক্ষক প্রজ্ঞাতারার ইচ্ছা অনুযায়ী চীনে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু কওে আড়াই বছর পর ৫২০ খৃষ্টাব্দে চীনে পৌছান চীনের সংসান পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শাওলিন টেম্পলে যাকে বলা হয় খালিহাতে যুদ্ধকলার লালনস্থল। বোধীধর্মা ঐসব ভিক্ষুকদের জন্য কিছু শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন, যা মানুষের অভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক অঙ্গঁ প্রত্যঙ্গঁ শক্তিশালী করার পাশাপাশি আত্মরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল যা পদ্ধতিগত মার্শল আর্টের ভিত্তি হিসাবে গণ্য করা হয়। কালক্রমে, শাওলীন মন্দিরে বৌদ্ধ ভিক্ষুকদের ধর্ম প্রচারাভিযান এবং চীনের সাথে বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে মার্শাল আর্ট জাপান, কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পরে।

ব্যুত্থান প্রশিক্ষনের সুফল ঃ
ব্যুত্থান অনুশীলন আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে অভূতপূর্ব আত্ম-উন্নয়ন ঘটায় যা শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবনে ও পেশাগত কাজের মান উন্নয়নে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। মূলতঃ ব্যুত্থান বৈজ্ঞানিক পন্থায় সত্যিকার বিপদজনক অবস্থায় আত্মরক্ষার বাস্তব সামর্থ্য সৃষ্টি করে ও সেই সঙ্গে মনো-দৈহিক (চংুপযড়- চযুংরপধষ) উন্নয়নের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট ব্যক্তিগত উন্নয়ন, স্বু-স্বাস্থের জন্য, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির জন্য প্রতিনিয়তকাজ করে চলছে। মানবদেহ চক্র এবং সুপ্ত টিস্যু(প্লাজমা, রক্ত, পেশী, চর্বি, হাড়, মজ্জা এবং ধাতু) সমূহকে উদ্দিপীত করার মাধ্যমে প্রাণ শক্তি বৃদ্ধিসহ মানুষের দেহ ও মনে পূণাঙ্গ ভারসম্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন দেহের অভ্যান্তরীন পদ্ধতি বাহিরের চাপ ও যন্ত্রনাকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয় তখনি দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে এবং ক্রমশ মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল ও রোগাক্রান্ত করে।

প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রে গঠিত ব্যুত্থান কৌশল চর্চা
অন্যদিকে ব্যুত্থান চর্চা মানষিক কমায় এবং মনকে স্থীর করে সজাগ ও মনোযোগী করে তোলে ফলে দেহ ও মন হয়ে উঠে নিরোগ। প্রতিরোধ ক্ষমতা হয় শক্তিশালী। এছাড়া আমাদের সকলের প্রত্যাশা যেন প্রাণ রক্ষার জন্য যুদ্ধ কখনই করতে না হয় তবু পরিস্থিতি যদি বাধ্য করে সেক্ষেত্রে আত্মরক্ষামূলক কলা-কৌশল জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকরী ্পায় হিসেবে অনন্য। বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যুত্থান চর্চা মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা পালন করে। যুব সমাজ বিশেষভাবে শিশুদের মানস গঠন ও নারীর ক্ষমত্য়নে ব্যুত্থানের ভুমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট কি ?
ব্যুত্থান মাশাল আর্ট হল প্রাচীন দক্ষিন এশিয়ার আত্মরক্ষা মূলক যুদ্ধকলার ঐতিহ্যের ধারায় বিজ্ঞান ভিত্তিক এক বাস্তব ধর্মী আত্মরক্ষার পদ্ধতি , নিরাপদ ক্রীড়া ও সার্বিকভাবে জীবনকে কল্যানময় করবার মহান কলা। এটি আধুনিক মনোস্তত্ব ও বৈজ্ঞানিক সূত্র নির্ভর জ্ঞান এবং ঐতিহ্যের ধারা থেকে নির্বাচিত হাতে কলমে কার্যকর মনো-দৈহিক পদ্ধতি সমূহের এক আধুনিক ও সফল সমন্বয়ক যাকে বলা হয়- “সংঘাত রহিতকরণ ও জীবন ক্ষমতায়নের পথ”।
ব্যুত্থান অনুশীলনের ক্ষেত্রে পাঁচটি দিক গুরুত্বপূর্ণ – ১. ধ্যান চর্চা, ২. আত্মরক্ষামূলক ক্রীড়া, ৩. জীবন উন্নয়ন বিষয়ক শাস্ত্র, ৪. প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যের আলোকে শরীর চর্চা, ৫. জীবনের লক্ষ্য বাস্তবায়নের কৌশল।

ব্যুত্থান সংস্কৃত শব্দ থেকে উদ্ভুত একটি বাংলা শব্দ যার আভিধানিক অর্থ স্বাতন্ত্রের সাথে প্রতিরোধ বা সনাতনকে সত্যদ্বারা প্রতিস্থাপন করবার এক বৈপ্লবিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মূলে রয়েছে মনো-দৈহিক শক্তি অর্জনের অদম্য স্পৃহা, অলিম্পিক ধ্যান ধারনা, বাস্তবধর্মী যুদ্ধকলা, নিরাপদ প্রশিক্ষন পদ্ধতি, সুস্থ, কল্যানধর্মী জীবন ব্যবস্থা এবং ক্ষমতায়ন। ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট নিয়মতি প্রশিক্ষনের মাধ্যেমে আক্রমনগুলোকে সহ্য করাও অন্তর্ভুক্ত (দেহ-বর্ম)। এটি নীচু লাথি দ্বারা আত্মরক্ষা করার জন্য সিনবোন কন্ডিশনের উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়। কঠিন পদার্থ আঘাত করে ভাঙ্গার মাধ্যমে মনো-দৈহিক শক্তি সমন্বয় ও শক্তির পরিক্ষা (ইৎবধশরহম ঞবপযহরয়ঁব) ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যার মাধ্যেমে শিক্ষার্থী মানসিক ভীতি, বাধাঁ, জড়তা এবং পেশী শক্তি বর্ধন ও সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত উন্নতি সাধন- এর ক্ষেত্রে উপলব্ধি অর্জন করে।
আধুনিক মনোস্তত্ব, শরীর বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, ত্রিকোনমিতি, যুক্তি এবং স্নায়ুবিদ্যা ইত্যাদি সূত্র নির্ভর জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট- এর কলা কৌশল বাস্তব রুপ লাভ করেছে। আধুনিক শারীরিক শিক্ষা(চযুংরপধষ ঊফঁপধঃরড়হ) এবং বাস্তব গবেষনাধর্মী আত্মরক্ষামূলক কলা-কৌশল চর্চার এক পূর্ণাঙ্গ সমনন্বয়।
এছাড়াও ব্যুত্থান প্রশিক্ষন মানুষের সদাচরন, নেতৃত্বদান, নিয়মাবর্তিতা, আত্মবিশ্বাস, মূল্যবোধ, সুস্বাস্থ্য, মনো-সংযোগ ইত্যাদি উন্নয়ন ঘটায়। স্ব-ইচ্ছায় প্রতিরোধ ও পরিবর্তন সাধনের উদ্দেশ্যে মাদক, ধূমপান, এবং সমজাতীয় অন্যান্য ক্ষতিকর বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে এবং একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন গঠনে কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।

 

গ্রান্ড মাষ্টার ড. ইউরী, এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
ড. ইউরী বজ্রমুনি বিশ্ব- রেকর্ডকারী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় মনো-দৈহিক চর্চার ক্ষেত্রে একজন অনন্য পথিকৃৎ। ডিসকভারী চ্যানেল বৈজ্ঞানিক গবেষণা দল তাকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ সুপার হিউম্যা বা অতিমানবদের অন্যতম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মনো-সংযোগ বা ধ্যানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দৈহিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার পাশাপাশি অসাধারন মেধা সম্পন্ন একজন মার্শাল আর্ট গ্রাান্ডমাস্টার। তিনি ইতিহাস সৃষ্টিকারী নতুন মাত্রার পথ প্রদর্শক হিসেবে পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ডিসকভারী বৈজ্ঞানিক গবেষক দল ল্যাবটরী পরীক্ষায় দেখতে পান যে, মনোঃসংযোগের মাধ্যমে ড. ইউরী পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৬% শতাংশ নিজ দেহের মাংশপেশী কাজে লাগাতে পারেনযা তার এশটি বিশ্ব রেকর্ড। তিনি মিলিটারী আন আর্মডশমব্যাট, ল-এনফোর্সমেন্ট, কাউন্টার টেরোরিষ্ট এন্ড সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ ও ট্রেইনার। ড. ইউরী ইউনাইটেড ন্যাশন্স মার্শাল আর্টস(টহরঃবফঘধঃরড়হং গধৎঃরধষ অৎঃং)- এর পরিচালক। তিনি হিমালয় থেকে শুরু করে তিব্বত, আমেরিকা, ইউরোপ, ভারত, চীন পেরিয়ে সোয়াজিল্যান্ড জুড়ে দৈহিক শক্তি মনোস্তাত্বিক উন্নয়ন সম্পর্কিত জ্ঞান, সাধনা ও চর্চার অন্বেষণে অর্ধশতাধিক দেশ ভ্রমন করেন। গ্রান্ডমাস্টার ড. ইউরী ভারতের কাঞ্চিপুরাম ও চীনের শাওলীন টেম্পল সম্পর্কিত অনুসন্ধানী গবেষনার মাধ্যমে দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার মার্শাল আর্ট- এর লুপ্ত প্রায় ইতিহাস ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি মার্শাল আর্টের সর্বোচ্চ পদাধিকারী দশম লেভেল ব্লাক বেল্টধারী।তিনি মার্শাল আর্ট জগতে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, বিশেষজ্ঞ অথরিটি হিসেবে বিবেচিত। পৃথিবীর ছয়টি শীর্ষস্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে গ্রান্ডমাস্টার অফ দি ইয়ারহিসেবে অভূতপূর্ব স্বীকৃতি অর্জন করে পৃথিবীব্যাপি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন।

ড. ইউরী বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মার্শাল আর্ট গ্রান্ডমাস্টা দের আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড গ্রান্ড মাস্টার কাউন্সিল, আমেরিকার সর্বোচ্চ পুরস্কার “গ্রান্ডমাস্টার পিনাকেল অ্যাওয়ার্ড-২০০৯” লাভ করেন। ড. ইউরী শৈশবের উষালগ্ন থেকেই মহতী চিন্তা

 

চেতনা আর উদ্যোগ সমূহ কুঁড়ি
থেকে পাপড়ি ওমলতে শুরু করে বহুমুখী প্রতিফলন ও সাফল্য গাথার স্তরায়নের মধ্য দিয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ইংলিশ মিশনারী স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর, ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী পরিচালিত মিলিটারী বোডিং স্কুলের কঠোর অনুশাসন ও নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তরুন খ্যাডেট জীবন। অসাধারন প্রতিভাবন ক্যাডেট হিসেবে তিনি বরাবরই কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যের সাথে পরিচয় দিয়ে এসেছেন। মিলিটারী সাইন্স, ফিজিক্যাল ট্রেনিং, অবস্ট্রাকল কোর্স আন আর্মড কমব্যাট. মিলিটারী ড্রিলস প্যারেডের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি সুচারুরুপে পালন করতেন। তিনি হাতে গোনা কয়েকজন ডিস্টিংগুইষ্ট ক্যাডেট পদক প্রাপ্তদের অন্যতম হওয়ার বিরল সৌভাগ্য লাভ করেন। মাত্র এগার বছর বয়সে তিনি বার্মিজ ক্লাসিক্যাল আন আর্মড কমব্যাট ও অস্ত্রবিদ্যা ভিত্তিক (বান্ডো ও বানশে) মার্শাল আর্ট চর্চা করেন। ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট এবং কমব্যাট সেল্ফ ডিফেন্স (সিএসডি) ড, ইউরীর বৈপ্লবিক ও যুগান্তকারী চিন্তার ফসল, যা বিশ্বের সকল দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের আধুনিক জীবন যাত্রায় নিজের সুরক্ষা ও স্বল্প সময়ে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমূহের জন্য কার্যকরী শিক্ষা কৌশল হিসেবে সমাদৃত হয়েছে। সার্কভুক্ত দেশ সমূহের দুশত কোটি মানুষের মধ্যে ড. ইউরীই প্রথম ও একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিশ্বের মীর্ষস্থানীয় “ওয়ার্ল্ড মার্শাল আর্ট হল অব ফেইম আমেরিকা, পদক লাভ করে গ্রান্ডমাস্টার অব দ্যা ইয়ার-২০০৭” নির্বাচিত হন। তিনি “ন্যাশনাল সিকিউরিটি একাডেমী” আমেরিকা থেকে কমিশন অফিসার্স কোর্স সম্পন্ন করেন। ব্রিটিশ হোম অফিস অধিনস্ত সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রিজ অথরিটি(ঝওঅ খবাবষ-৩) ভিআইপি প্রটেশশনের উপর সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্রিটিশ আর্মি রয়েল ইঞ্জিনিয়ার্স- এর ।ধীনে বিস্ফোরক সাচৃ এন্ড রিকগনিশন কোর্সও সম্পন্ন করেন। ফায়ার ট্রেনিং একাডেমী, ইংল্যান্ড থেকে ফায়ার মার্শাল কোর্স সম্পন্ন করেন ও ব্রিটিশ পরিবহন মন্ত্রনালয়েরঅধীনে তিনি (এভিয়েশন লেভেল-৪) প্রশিক্ষন শেষে সনদ অর্জন করেন। উল্লেখ্য যে ড. ইউরী ইন্টারন্যাশনাল কমব্যাট মার্শাল আর্টস্ ইউনিয়ন এসোসিয়েশনকর্তৃক একজন প্রথিতযশা ব্যক্তি হিসেবে অনন্য স্বীকৃতি লাভ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। তিনি এফ. বি. আই, এস. এ. এস, সি. আই. এ, ব্রিটিশ আর্মি, লাটভিয়ান, স্পেশাল ফোর্স, আইরিস কারেকশন ডিপার্টমেন্ট ইত্যাদিআš দেশীয় বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের সদস্যদের সঙ্গে ক্রস ট্রেনিং- এর পাশাপাশিদেশের সরকারী নিরাপত্তা বাহিনীসমূহের প্রশিক্ষণে নিয়োজিত দেশের প্রথম ও শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্টান “রেঞ্জারস একাডেমী অব সিকিউরিটি এন্ড ডিফেন্স” এর কমান্ডান্ট হিসেবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ),সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, পুলিশ, কোষ্ট গার্ড, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী, এনএসআই, আনসার ও ভিডিপি, পুলিশ স্টাফ কলেজ, স্কুল অব মিলিটারী ইন্টিলিজেন্সসহ স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়স্থ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষনাদি পরিচালনাঃয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী কর্র্তক ব্যবহৃত সিকিউরিটি ব্যাটন(গণ ইধঃড়হ) ড. ইউরীই প্রবর্তন করেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল বডিগার্ড এসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ ট্যাকটিস ট্রেইনার্স এসোসিয়েশন, যুক্তরাজ্যের ল- এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং এজেন্সিজ- এর সার্টিফাইড ইন্সট্রাক্টর, আমেরিকান সোসাইটি ফর ল-এনফোর্সমেন্ট ট্রেইনার্স, আমেরিকান সোসাইটি অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ইত্যাদি সংগঠন সমূহের সঙ্গেও তিনি জরিত। রাজকীয় ভুটান দুতাবাসস্থ রাষ্ট্রদূত ড. ইউরীকে বিশেষ সম্মান সূচক “পীসফুল ড্রাগন গোল্ডেন ক্ল” উপাধীতে ভূষীত করেছেন

 

ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট দেশে ও বিদেশে ঃ
বাংলাদেশের সোনার সন্তান গ্রান্ড মাষ্টার ড. ইউরীর ঐতিহাসিক সম্মাননা অর্জন ও তার ঐকান্তিক চেষ্টায় আজ যুগান্তকারী দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার মার্শাল আর্টের ঐতিহ্য সম্মুন্নত করে চলছে পৃথিবীর মানচিত্র জুড়ে। আজ “ডিসকভারী চ্যালেন” নির্মিত সুপার হিউম্যান শোডাউন ডকুমেন্টারীর মাদ্যমে প্রায় ২০০ দেশে ব্যুত্থানের কলা-কৌশল প্রদর্শিত হচ্ছে যা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে উপমহাদেশীয় ঐতিহ্যের আলো অনুসরনীয় একটি পদ্ধতি রুপে সমাদৃত হচ্ছে, আমাদের গৌরবান্বিত করছে এই পুনরুদ্ধারের পালা। বিভিন্ন দেশে বহু সংখ্যাক সাধারন নাগরিকদের পাশাপাশি অন্যান্য মার্শাল আর্ট স্টাইল থেকে এসেও ব্যুত্থান ফেডারেশনে একিভূত হচ্ছেন বিশিষ্ট প্রশিক্ষক, চ্যাম্পিয়ন,মাষ্টার আর গ্রান্ড মাষ্টারগণ। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষন কেম্প ও এক্সিবিশনে বিশেষ সাফল্যের সাথে ওইটঋ অলেম্পিক দর্শনের আলোকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট ফেডারেশন এর অধীনে পৃথিবীর ইংল্যান্ড, আমেরিকা, এস্টোনিয়া, সাউথ আফ্রিকা, সুইডেন, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, ইরান, ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, জার্মান, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, রাশিয়া সহ বহু দেশে তার সফল কার্যক্রমের পাশাপাশি বাংলাদেশেও বিভিন্ন জেলা উপজেলায় এর শাখা শিশু, কিশোর, যুবক, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ সহ সকল শ্রেণীর মানুষের সুস্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস গঠনসহ বৃক্ষরোপন, ত্রানকার্যক্রম, মাদকরিরোধী কর্মকান্ড সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে উল্লেখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বিগত সাউথ এশিয়ান গেমস ২০১০ ব্যুত্থান মার্শাল আর্ট বিশেষ প্রদর্শনী ইভেন্ট হিসেবে অনুশীলনের সুযোগ পায়। পাশাপাশি ড. ইফরীর নেতৃত্বে “বেঙ্গল এসোসিয়েশন অব লাঠি খেলা” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা সম্পর্কিত সুদির্ঘ গবেষণা ও চর্চা এগিয়ে চলছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের অধিনস্থ “ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল”(ঘঝঈ)- এর অনুমোদিত স্পোর্টস ব্যুত্থানের প্রসারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম বরেণ্য ব্যক্তি মেজর জেনারেল আমীন আহমেদ চৌধুরী (অবঃ) বীর বিক্রম, একজন সুযোগ্য সভাপতি হিসেবে নিরলসভাবে আজীবন নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। এছাড়া সকল ক্যাডেট কলেজ, বি. এন. সি. সি, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সহ সরকারের রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে ব্যুত্থানের অন্তর্ভূক্তি সাফল্যের সাথে কার্যকরী করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির সকল গর্বিত সকল ব্লাক বেল্ট ও বাংলাদেশের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সহ সকলেই অধুমপায়ী হিসেবে অনন্ন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।