সদরঘাট (ঢাকা), ০৬ ডিসেম্বর;
ঢাকার সদরঘাট অঞ্চলের বুড়িগঙ্গা নদীর দু’পাড়ের যাত্রী সহজে যাতায়াতের লক্ষ্যে বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে ‘টানেল’ নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান আজ ঢাকায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন এবং নতুন সম্প্রসারিত টার্মিনাল ভবনে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন।
শাজাহান খান বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় নান্দনিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা হকারমুক্ত করা হয়েছে। নতুন টার্মিনাল ভবন, পার্কিং ইয়ার্ড নির্মাণ, বনায়ন ও পন্টুন বৃদ্ধির ফলে যাত্রী সাধারণের চলাচলের সুযোগ সুবিধা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালের ১লা জুলাই থেকে  ঢাকা সদরঘাটকে ইজারাদার মুক্ত করা হয়েছে। পোস্তগোলার নিকটস্থ শ্মসানঘাটে নতুন একটি অত্যাধুনিক লঞ্চ টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হবে। এলক্ষ্যে সদরঘাট থেকে শ্মসানঘাট পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার রাস্তা বিআইডব্লিউটিএর অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, লঞ্চে উঠার আগে টিকেট সংগ্রহ করে সদরঘাটে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে। এতে যাত্রী হয়রানি অনেকাংশে কমে আসবে। এক্ষেত্রে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্ত্রী সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের সার্বিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন। নদী রক্ষায় বিআইডব্লিউটিএকে আরো বেশী কাজ করার আহবাণ জানান। এক্ষেত্রে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মন্ত্রী কুড়িগ্রামের ‘চিলমারী নদী বন্দরের’ উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন সদরঘাট ও কেরানীগঞ্জের জিনজিরা থেকে শত শত লোক নৌকা ও ট্রলারে নদী পাড় হয়। বড় বড় লঞ্চ ও কার্গোর প্রপেলারে লেগে নৌকা ও ট্রলার দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এত জানমালের অনেক ক্ষতি হয়। টানেল নির্মাণ হলে নৌকা ও ট্রলারের যাত্রী সাধারণ দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি পাবে।