এন.আই.মিলন, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি- দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ৫ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়ীতে কলেজ ছাত্রী প্রেমিকা মেহের বানু (২৩) আমরন অনশন শুরু করেছে।
উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বড় মসজিদ পাড়ার নজরুল ইসলাম নজুর মেয়ে গড়েয়া ডিগ্রী কলেজের বিএ পাশ পরীক্ষার্থীনি মেহের বানু (২৩) প্রেমের পরিনতিতে বিবাহের দাবিতে গত ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার সময় একই গ্রামের শাহাপাড়ার মৃত আজিজুল হকের ছেলে রুবেল ইসলামের বাড়ীতে এসে বিবাহের দাবিতে শোওয়ার ঘরে উঠেন।
প্রেমিকার উপস্থিতি বুঝতে পেরে প্রেমিক প্রকৃতির ডাকে সারা দেয়ার কথা বলে লোকজনকে লেলিয়ে দিয়ে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়। অবস্থার বেগতি দেখে প্রেমিকের বড় ভাই লাবলু, ভাবী খাদিজাসহ আরো ৯/১০ বোন-ভাবী তার উপর চড়াও হয় ও মারপিট করে টেনে হেচরে তাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। মেহের বানু বাড়ীর উঠানেই বিবাহের দাবিতে আমরন অনশন শুরু করেন।
সংবাদ পেয়ে সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড সদস্যা সবিতা রানী ছেলের পক্ষ নিয়ে প্রেমিকা মেহের বানুকে মারপিট করে জোর পূর্ব রিক্সা-ভ্যানে তুলে তার বাবার বাড়ীতে পৌছে দিতে গেলে তিনি জনরোশে পরেন। মেহের বানু আবার প্রেমিকের বাড়ীতে ফিরে এসে অবস্থান নেয়।
কলেজ ছাত্রী-মেহের বানু জানান, বিবাহের প্রলোভনে দীর্ঘ ৫ বছর পূর্বে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। বিবাহের বিশ্বাস স্থাপন করে দৈহিৃক সম্পর্ক স্থাপন করে। প্রেমিক রুবেল গত দুই সপ্তাহ থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে বর্তমানে আমার মোবাইল ধরছে না বা যোগাযোগ রাখছে না। তার সাথে বিবাহ না হয়ে আমার আত্মহত্যা ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। রুবেলর মা-মেরী বেওয়া জানান, আমার ছেলের সাথে মেহের বানুর প্রেমের সম্পর্কের কথা উকিল জামাই এনামুল হকের মাধ্যমে জেনেছি কিন্তু ছেলে বিবাহে রাজি না থাকার কারনে বিবাহ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
পলাশবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েলুর রহমান সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গ্রামবাসী আমাকে জানিয়েছে। সংবাদ পেয়ে আইন-শৃংঙ্খলা অবস্থা শান্ত রাখার জন্য ২জন ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে ঘটনা স্থলে পাঠানো হয়েছে এবং থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছি। বর্তমানে মেহের বানু রুবেল ইসলামের বাড়ীর শেওয়ার ঘরে অবস্থান নিয়েছে।