বিশ্ব নদী দিবস পালন উপলক্ষ্যে বিশ্ব নদী দিবস সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ (৫০টি সংগঠনের ফোরাম) এর উদ্যোগে আজ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শনিবার, বাহাদুরশাহ পার্ক থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় (সদরঘাট টার্মিনাল) পর্যন্ত ‘নদীর জন্য পদযাত্রা’’ শীর্ষক এক কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রা শুরুর আগে বাহাদুরশাহ পার্কে একসংক্ষিপ্ত সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য শারমীন মুরশিদ, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোঃ হুমায়ন কবির, রিভার্স সেভিং নেটওয়ার্ক-যুক্তরাজ্যের সভাপতি রফিকুল হাসান জিন্নাহ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রিভারাইন পিপল এর মহাসচিব শেখ রোকন, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার ও বাপা’র যুগ্মসম্পাদক শরীফ জামিল। উদ্বোধনীর পর ঐতিহাসিক বাহাদুরশাহ পার্ক থেকে শুরু হয়ে ব্যানার-ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড ও রঙ্গীন বেলুন বহন এবং নদী-উদযাপনমূলক বাদ্য বাজিয়ে বর্ণিল এক উৎসবমূখর পদযাত্রা সদরঘাট টার্মিনালে বুড়িগঙ্গা পাড়ে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচীতে আয়োজক ৫০টি সংগঠনের প্রতিনিধিরাসহ নদী ও পরিবেশ রক্ষাকমীর্, ছাত্র-যুবক ও নদী পাড়ের জনগণ ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশ গ্রহন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস নদীকে নিয়ে। নদী ও প্রকৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে আমাদের স্বার্থেই, অথচ সেটা আমরা করছি না। প্রকৃতির বিরুপ প্রভাবের কারণেই আজ ভূমিধস, বন্যা, নদীভাঙ্গনসহ এধরণের দূর্যোগ মোকাবেলা করতে হচ্ছে আমাদেরকে। জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব তা প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নদী দখল দূষণ বন্ধে আমাদের যার যার অবস্থানে থেকে কাজ করতে হবে, নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আন্ত:সীমান্ত ৫৪টি নদী নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগুলোর সমস্যার সমাধান ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা মোকাবেলায় ঐ এলাকার নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, পানি সংরক্ষণসহ আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে। বুড়িগঙ্গার দূষণ আজ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ট্যানারী সরে যাওয়ার পর ৪০ভাগ দূষণ বন্ধ হয়েছে, তবে বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা বর্জ্যসহ শিল্প বর্জ্য, গৃহস্থলী বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং এজন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

শারমীন মুরশিদ বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃতি-পরিবেশ-নদী-অর্থনীতি ও ভবিষ্যত উন্নয়নের স্বার্থে নদীকে রক্ষা করতে হবে। সরকার নদীরক্ষা কমিশন গঠন করে প্রশংসনীয় কাজ করেছেন, এটিকে শক্তিশালী করতে হবে।

জনাব মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, নদী রক্ষার জন্য নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের সকলকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যে আমরা নদীকে দখল-দূষণ করবো না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার পক্ষ থেকে এই কাজটি আমি করে যাচ্ছি।

ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, নদীর জন্য পদযাত্রা নাগরিকদের মধ্যে নদী রক্ষায় ঐক্যের প্রতীক, মানুষের এই ঐক্য ভবিষ্যতে আরো বড় হবে। এত আন্দোলন, নদীরক্ষায় টাস্কফোর্স ও নদী কমিশন গঠন করা স্বত্তেও বিগত ০৮ বছরে একটি নদীও সম্পূর্ণভাবে দখল-দূষণ-অবকাঠামো মুক্ত হয়নি। এতে দেশের মানুষ আজ ব্যথিত ও হতাশ। অতএব, সারা দেশের সকল বিপর্যস্ত নদী উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

তিনি উপস্থিত শতশত নদীকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের সাথে নিয়ে নদীরক্ষায় একটি অঙ্গীকার নামা পাঠ করেন। এতে নদীগুলোকে দখল-দূষণ-অবকাঠামোমুক্ত সতেজ ও সচল পানি প্রবাহে পরিণত করা, নদীর জন্য ক্ষতিকর সকল দেশী-বিদেশী কার্যক্রম প্রতিহত করা এবং প্রতিজন নদী-কর্মী তার বাড়ীর পাশের বা কাছের অন্ততঃ একটি নদীর অভিভাবকের দায়িত্ব গ্রহনের শপথ ঘোষনা করা হয়। উপস্থিত সকলে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত প্রসারিত করে এই শপথনামায় সমর্থন প্রদান করেন।