ঢাকা, পয়লা আশ্বিন (১৬ সেপ্টেম্বর) :

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, মিয়ানমারে মানুষের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম জ¦ালিয়ে দিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে এবং তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দেশ থেকে, এ ঘটনা বিশ^বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে সাময়িকভাবে এ বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোকে আশ্রয় দিয়েছেন, খাবার দিচ্ছেন। বিশ^বিবেক শেখ হাসিনাকে বলছে “মাদার অভ্ হিউম্যানিটি”। যুক্তরাজ্যের চ্যানেল-৪ টিভিতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আর বিএনপি’র নেতারা অন্যায়ভাবে সরকারের সমালোচনা ও মিথ্যাচার করছে। অথচ এ সংকটময় মুহুর্তে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার খরব নেই, হারিয়ে গেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ^বাসী মিয়ানমারের এ গণহত্যার নিন্দা করছে। অবিলম্বে এ গণহত্যা বন্ধ করা হোক, রোহিঙ্গাদের নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হোক।

বাণিজ্যমন্ত্রী আজ ঢাকায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম রচিত ৪টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। বইগুলো হচ্ছে- বঙ্গবন্ধুর মর্মকথা (২য় খন্ড), আর্থসামাজিক উন্নয়নে জ¦ালানি খাতের ভূমিকা : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ, চলমান অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য এবং সমসাময়িক সাধারণ জ্ঞান।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ^বিবেক আজ সোচ্চার মিয়ানমারের আচরণে। তুরস্কের ফাস্টলেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ সকল দেশের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের অবস্থা পরিদর্শন করেছেন, উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘ গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আসন্ন অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদানের জন্য আজ সেখানে গেছেন। বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপে বিশ^বাসী সন্তুষ্ট, আর আমাদের দেশের বিএনপি অসন্তুষ্ট।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ইব্রাহিম হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক মন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর এবং বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ।