আজ ২ অক্টোবর ২০১৭ইং সোমবার টিসিবি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক আয়োজিত বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ডেসকো কর্তৃক প্রস্তাব এর গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার গণশুনানীর চাইতে বিইআরসি’র গণশুনানীর মান মন্দের ভাল। যদিও এ গণশুনানী জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটে না। তিনি আরো বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শুধুমাত্র ভোক্তাদেরই সমস্যা না এটি একটি জাতীয় সমস্যা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার এই গণশুনানীতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল ও ক্ষমতার বাইরে থাকা বড় রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি আমাদেরকে পীড়া দিয়েছে। যাঁরা জনগণের অধিকার রক্ষা করার কথা বলে ক্ষমতায় আসে ও ক্ষমতায় আসতে চায় তাদের আজ এখানে অনুপস্থিতি জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, ডেসকো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চাইতে সিস্টেম লস কমিয়ে নজির সৃষ্টি করেছে। তাই ডেসকোর প্রস্তাব অনুযায়ী ০.৮ পয়সা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করেন এবং মূল্যবৃদ্ধি না করে প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার মডেল হিসেবে জাতির সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার আহ্বান জানান। বক্তব্যে আরো বলেন, জনগনের উপর মূল্য বৃদ্ধি করার দৃষ্টান্ত খুব একটা ভালো নয়। বিগত দিনে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৯০০ কোটি টাকা লোকসানের কথা বলে জনগণের পকেট থেকে ৫০ থেকে ১৩০ ভাগ রেলের ভাড়া বৃদ্ধি করেও রেল এখন পর্যন্ত লোকসানেই রয়েছে। এ বছর জানুয়ারি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকদের জীবন ব্যয় ভার ৪০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনিতেই চালের মূল্য ২৮% শুল্ক প্রত্যাহার করার পরও দাম কমেনি। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি হলে এর অজুহাত তুলে চাল সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আরেক ধাপ বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। সেই সাথে এর প্রভাব পড়বে উৎপাদন, ব্যবসা ও রপ্তানী খাতে। দেশের বর্তমান প্রান্তিক অর্থনীতি দুর্বল থাকার কারণে বিদ্যুতের অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব নাগরিক সমাজ প্রত্যাখান করছে।